তেহরান: ওমান সাগরে উত্তেজনার পারদ চড়তেই এবার ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠক নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হলো। দ্বিতীয় দফার আলোচনার যে খবর আমেরিকা প্রচার করছিল, তাকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা IRNA। তেহরানের সাফ কথা, একদিকে নৌ-অবরোধ আর অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাব, আমেরিকার এই দ্বিচারিতা কূটনৈতিক সমাধানের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।
বৈঠক নিয়ে অনড় তেহরান
গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক হলেও তা কোনো রফাসূত্র ছাড়াই শেষ হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জল্পনা শুরু হলেও ইরান জানিয়ে দিল, মার্কিন ‘অতিরিক্ত চাহিদা’ এবং ‘অবাস্তব প্রত্যাশা’র কারণে আলোচনার পরিবেশ বিষিয়ে গিয়েছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মতে, ওয়াশিংটন আসলে আলোচনার নামে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির রাজনীতি বা ‘ব্লেম গেম’ খেলছে।
ইউরেনিয়াম ও জাহাজ বিতর্ক Iran rejects Islamabad talks
উত্তেজনার মূলে রয়েছে দুটি প্রধান বিষয়। প্রথমত, ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান ৪৪০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে। কিন্তু তেহরান তা সরাসরি অস্বীকার করে জানিয়েছে, এই ইউরেনিয়াম অন্য কোথাও পাঠানোর প্রশ্নই ওঠে না।
দ্বিতীয়ত, সম্প্রতি ওমান সাগরে ‘তুসকা’ নামক ইরানি জাহাজটিকে মার্কিন নৌসেনার আটক করার ঘটনা পরিস্থিতিকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। ইরান একে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা সামরিক প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদে জানিয়েছেন, “আমরা এমন কোনো আলোচনায় বসতে চাই না যা আগে থেকেই ব্যর্থ হওয়ার জন্য তৈরি এবং যা নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর অজুহাত হয়ে দাঁড়াবে।”
শাঁখের করাত আমেরিকা
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই অঞ্চলের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার আগে এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা বড়সড় যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, যতক্ষণ না আমেরিকা তাদের অবৈধ নৌ-অবরোধ তুলছে, ততক্ষণ কোনো অর্থবহ আলোচনা সম্ভব নয়।




















