ওয়াশিংটন: পাকিস্তানের মাটিতে ভেস্তে গেল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি বৈঠক। তবে এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়া নিয়ে তিনি যে একেবারেই চিন্তিত নন, তা সাফ জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উলটে তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, ইরান আর আলোচনার টেবিলে না ফিরলেও তাঁর কিছু যায় আসে না।
ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার মুখোমুখি বৈঠকে বসেছিল দুই দেশের প্রতিনিধি দল। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন সেদেশের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের গালিবাফ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও রফাসূত্র মেলেনি। ফ্লোরিডা থেকে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, “ইরান ফের আলোচনার টেবিলে এল কি না, তা নিয়ে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই। চুক্তি হোক বা না হোক, জয় আমেরিকারই হবে।” ট্রাম্পের দাবি, এই বৈঠকে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা এখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে মরিয়া। কিন্তু আমেরিকা কোনওভাবেই তা হতে দেবে না।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, ইরান যে পরমাণু অস্ত্র বা তার সরঞ্জাম তৈরি করবে না, সেই বিষয়ে তাদের কাছ থেকে লিখিত ও ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি চায় ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্টের দাবি, তাঁরা একটি ‘ভারসাম্যপূর্ণ এবং ন্যায্য’ চুক্তির জন্যই প্রস্তুত।
ইসলামাবাদের এই বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় দু’সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অনিশ্চয়তায়। লেবাননে হিজবুল্লার ওপর ইজরায়েলি হামলার মাঝেই এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযানের আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালী খুলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত বিশ বাঁও জলে।




















