ইরান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৫০

তেহরান: ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ (Iran protests)এখন পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক বিদ্রোহের রূপ নিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
iran-protests-death-toll-crosses-50

তেহরান: ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ (Iran protests)এখন পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক বিদ্রোহের রূপ নিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রবেশ করেছে। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকে শুরু করে এখন লর্ডেগান, কুহদাশত, ফাসা, আজনা, কোমের মতো শহরে তুমুল সংঘর্ষ চলছে।

মানবাধিকার সংগঠন এবং স্বাধীন সূত্রগুলো জানাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছে, শতাধিক আহত। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া কিছু মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও সংখ্যা কমিয়ে দেখাচ্ছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির এটি আর স্থানীয় অসন্তোষ নয়, একটি জাতীয় বিদ্রোহ।সংকটের মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক ধ্বংস। ২০২৫ সালে ইরানি রিয়ালের মূল্য অর্ধেকেরও বেশি কমে গিয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি ৪২-৪৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

   

কোপার জালে আগুন ঝরিয়ে উত্থান বর্ধমানের, আটকে গেল ব্যারেটো দল

খাদ্যের দাম ৭০ শতাংশ বেড়েছে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি এবং সরকারের অপরিকল্পিত নীতি এর জন্য দায়ী। প্রথমে বাজারের ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামেন, দোকান বন্ধ করে ধর্মঘট করেন। কিন্তু দ্রুত যোগ দেন ছাত্র, শ্রমিক এবং সাধারণ নাগরিক। স্লোগান উঠছে ‘ডিক্টেটরের মৃত্যু’, ‘খামেনির মৃত্যু’, এমনকি রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবি। কেউ কেউ বলছেন, ‘গাজা-লেবানন নয়, আমার জীবন ইরানের জন্য’ সরকারের বিদেশি নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ।

বিক্ষোভ এখন হিংসাত্মক। লর্ডেগানে বিক্ষোভকারীরা গভর্নরের কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে, আজনায় পুলিশ স্টেশন আক্রমণ করেছে। কিছু ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর সরাসরি গুলি চালানো হচ্ছে। একটি ঘটনায় বিক্ষোভকারীরা এক নিরাপত্তা কর্মীকে ঘিরে ধরে মারধর করেছে, যিনি আগে গুলি চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

নোবেল বিজয়ী শিরিন এবাদি এই গুলি চালানোকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছেন। ইন্টারনেট বন্ধ, গ্রেফতার অব্যাহত। সরকার ‘ঠান্ডার কারণে’ ২১ প্রদেশে ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে, যা অনেকে বিক্ষোভ দমনের কৌশল বলে মনে করছেন।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর হিংসা চালালে আমেরিকা হস্তক্ষেপ করবে।

এই বিদ্রোহ ২০২২ সালের মাহসা আমিনি আন্দোলনের চেয়েও বড় হয়ে উঠছে বলে অনেকে মনে করছেন। ৪৭ বছরের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ফুঁসে উঠেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, কেউ জানে না কিন্তু ইরানের মানুষের এই লড়াই বিশ্বের নজর কেড়েছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google