ওয়াশিংটন: ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনার ঠিক আগে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump)। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, পাকিস্তানে আলোচনায় কোনও সমঝোতা না হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে আমেরিকা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করা হচ্ছে।
একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা যুদ্ধজাহাজগুলোতে সেরা অস্ত্র লোড করছি। যদি কোনও চুক্তি না হয়, তাহলে আমরা সেই অস্ত্র খুব কার্যকরভাবে ব্যবহার করব।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক চাপ তৈরির কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।
আরও দেখুনঃ AIFF নির্দেশে বিপাকে রাজস্থান ইউনাইটেড, খুঁজছে বিকল্প মাঠ!
এই পরিস্থিতিতেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে। তিনি রওনা হওয়ার আগে জানিয়েছেন, আলোচনার ফল ইতিবাচক হতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে দেন, ইরান যদি আলোচনায় কৌশলগত চাল চালতে চায়, তাহলে মার্কিন দল তা মেনে নেবে না।
অন্যদিকে, ইরানের তরফ থেকেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সেখানকার পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবফ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আলোচনার আগে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। তাঁর দাবি, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এই দুই বিষয় আগে নিশ্চিত না হলে আলোচনা এগোবে না। ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে পশ্চিম এশিয়ার চলতে থাকা সংঘাত। ইসরায়েল ও হিজবুল্লার মধ্যে সংঘর্ষ এখনও থামেনি। ইরান জানিয়েছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা আলোচনায় বসবে না। ফলে ইসলামাবাদের বৈঠক কার্যকর হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়। সংঘাতের আগে যেখানে প্রতিদিন ১০০-র বেশি জাহাজ যাতায়াত করত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ১২-তে। ট্রাম্প এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে তেল পরিবহণ ব্যাহত করছে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “ইরান খুব খারাপভাবে পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। তারা যে চুক্তি মেনে চলার কথা ছিল, তা করছে না।” তাঁর এই মন্তব্য আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আলোচনার পাশাপাশি চাপ বজায় রাখার কৌশলই নিচ্ছে আমেরিকা।
এদিকে ইসলামাবাদে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শহরের বিভিন্ন রুটে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং শহরের একাধিক অংশ কার্যত লকডাউন করে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না।



















