ওয়াশিংটন/তেহরান: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনা যখন চরমে, ঠিক তখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির চুক্তি চূড়ান্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আমেরিকা, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা। তবে এই চুক্তির সময়সীমা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনও রফাসূত্র মেলার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা। এর মাঝেই আসরে নেমে তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের চরম ডেডলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে দেওয়া চরমসীমা আরও ২০ ঘণ্টা বাড়িয়ে মঙ্গলবার রাত ৮টা (ET) পর্যন্ত করেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, চুক্তির সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। তবে এর সঙ্গেই তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, “ওরা যদি চুক্তিতে না আসে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখে, তবে ওদের দেশের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।” পাশাপাশি, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া না হলে ইরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
মধ্যস্থতা ও আমেরিকার জোড়া প্রস্তাব US Iran Ceasefire Deal
পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মাধ্যমে পর্দার আড়ালে এই মধ্যস্থতার চেষ্টা চলছে। ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে সরাসরি বার্তা আদানপ্রদানও হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios) সূত্রে খবর, আমেরিকার দেওয়া চুক্তির খসড়ায় দুটি পর্যায়ের কথা বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং দ্বিতীয় ধাপে যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করার চূড়ান্ত চুক্তি।
ইরানের অনড় অবস্থান ও আশঙ্কার মেঘ
তবে মূল জট পাকিয়েছে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে। তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির জন্য হাতছাড়া করতে নারাজ। কারণ গাজা বা লেবাননের মতো যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হওয়ার পুনরাবৃত্তি তারা চায় না।
সব মিলিয়ে ব্যর্থতার ঝুঁকি অত্যন্ত স্পষ্ট। মধ্যস্থতাকারীদের আশঙ্কা, আমেরিকা বা ইজরায়েল যদি ইরানের শক্তি পরিকাঠামোয় হামলা চালায়, তবে পালটা উপসাগরীয় দেশগুলির তেল ও জল পরিশোধন কেন্দ্রেও ভয়াবহ হামলা চালাতে পারে তেহরান, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়ংকর ধ্বংসলীলার দিকে ঠেলে দেবে।



















