ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানের বিরুদ্ধে চলতি অভিযান নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন (US defense)। পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেছেন, “আজ আবারও ইরানের অভ্যন্তরে আমাদের সবচেয়ে তীব্র আক্রমণের দিন হবে।” হেগসেথের কথায়, আজ সবচেয়ে বেশি ফাইটার জেট, বোমারু বিমান এবং স্ট্রাইক চালানো হবে, গোয়েন্দা তথ্য আরও নির্ভুল ও উন্নত হবে। ইরান একা দাঁড়িয়ে আছে এবং ভয়াবহভাবে হেরে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
পেন্টাগনের প্রেস ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেছেন হেগসেথ যেখানে জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও উপস্থিত ছিলেন। হেগসেথ বলেছেন, “আমরা শত্রুকে সম্পূর্ণ ও নিশ্চিতভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত থামব না, কিন্তু এটা আমাদের সময়সূচী ও আমাদের পছন্দ অনুসারে হবে।” গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের মিসাইল হামলা যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে কম হয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে তাদের ক্ষমতা কমে গেছে।
আরও দেখুনঃ সম্পূর্ণ ব্যর্থ! চীনা এয়ার ডিফেন্স নিয়ে হাত কামড়াচ্ছে ইরান
আমেরিকা এখন পর্যন্ত ৫,০০০-এর বেশি টার্গেট এবং ৫০টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করেছে। হামলা আরও গভীরে যাবে, ইরানের নিউক্লিয়ার সাইট, মিসাইল লঞ্চার এবং কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে।যুদ্ধের এই পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যও মিশ্র। একদিকে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ ‘শীঘ্রই শেষ হবে’ এবং উদ্দেশ্য ‘প্রায় সম্পূর্ণ’ হয়েছে, অন্যদিকে ইরান যদি গাল্ফের তেল সাইট বা স্ট্রেইট অফ হরমুজে আক্রমণ করে তাহলে ‘মৃত্যু, আগুন ও ধ্বংস’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
হেগসেথের ঘোষণা এই মিশ্র বার্তার মধ্যে এসেছে, যা দেখায় যে আমেরিকা এখনও পুরোপুরি থামছে না বরং চাপ বাড়াচ্ছে। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডারের জন্য এটা ‘স্বাগতিক উপহার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়েছে। তারা বলছে, হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেবে।
ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে, সৌদি আরব, ইউএই, কুয়েত ও ইরাক উৎপাদন কমিয়েছে ৬.৭ মিলিয়ন ব্যারেল। আরব আমিরাতের রুয়াইস রিফাইনারিতে ড্রোন হামলার পর বন্ধ হয়ে গেছে। গাল্ফ দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আরও ঝুঁকছে, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা তাদেরকে আমেরিকার কক্ষপথে টেনে এনেছে।




















