করাচি: পাকিস্তানের করাচিতে সিন্ধ রেঞ্জার্সের সদর দফতরে শনিবার আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় (Karachi Terror Attack) অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন রেঞ্জার্স জওয়ান এবং তিনজন জঙ্গিও রয়েছে। ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে।
সিন্ধ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জাভেদ আলম ওধো জানান, প্রথমে বিস্ফোরণের খবর সামনে এলেও তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি রেঞ্জার্স সদর দফতরের প্রধান ফটকে ধাক্কা মারে। এরপরই হামলাকারীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয়।
হামলার পরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (SSU), অ্যান্টি টেররিস্ট ফোর্স (ATF), পাকিস্তান রেঞ্জার্স, র্যাপিড রেসপন্স ফোর্স এবং পুলিশ কমান্ডো যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় গুলির লড়াই ও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
রেঞ্জার্সের সদর দফতরটি করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় অবস্থিত। এর কাছেই রয়েছে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাকিস্তান আবহাওয়া দফতরের কার্যালয়। হামলার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২ সিন্ধ ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পরিষেবার দল পাঠায়। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলিকেও সতর্ক রাখা হয়।
ঘটনার পর সিন্ধের মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলি শাহ হামলার বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। তিনি প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান এবং করাচির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেন। পাশাপাশি দ্রুত এলাকা সুরক্ষিত করে হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন।
সিন্ধের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়া-উল-হাসান লাঞ্জারও করাচি পুলিশের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন। হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কীভাবে এই নিরাপত্তা ভেদ করা সম্ভব হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি ও চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



