তেহরান: বিশাল আঘাত ইরানের হৃদয়ে। ইরানের ইসলামিক রেজিমের একটি গভীর ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (bunker buster)সুবিধায় GBU-57 বাঙ্কার বাস্টার মিসাইল দিয়ে আঘাত হেনেছে মার্কিন এয়ার ফোর্সের B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান। পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই হামলায় ফোর্ডো বা অনুরূপ গভীর সুবিধা লক্ষ্য করা হয়েছে। যা পাহাড়ের নিচে শতাধিক মিটার গভীরে অবস্থিত এবং বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কনভেনশনাল বোমা দিয়েও পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন।
GBU-57 ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনেট্রেটর (MOP) নামের এই ৩০,০০০ পাউন্ডের মিসাইল শুধু B-2 স্পিরিট বোমার থেকেই ফেলা যায়। এটি ২০০ ফুটেরও বেশি শক্ত কংক্রিট ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। গত জুন ২০২৫-এ অপারেশন মিডনাইট হ্যামারে B-2 বিমান ১৪টি এই মিসাইল ফেলে ফোর্ডো, নাতানজ এবং ইসফাহানের নিউক্লিয়ার সাইটগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি করেছিল। এখন মার্চ ২০২৬-এ অপারেশন এপিক ফিউরির অধীনে আবার B-2 মোতায়েন করা হয়েছে, যদিও সাম্প্রতিক হামলায় প্রধানত ২,০০০ পাউন্ডের মিসাইল ব্যবহার হয়েছে মিসাইল সাইটে। তবে নিউক্লিয়ার সুবিধায় GBU-57-এর ব্যবহার ইঙ্গিত দেয় যে মার্কিন বাহিনী এখনো ইরানের ভূগর্ভস্থ নিউক্লিয়ার পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করছে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে এই হামলার পর বিজ্ঞানীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অবিলম্বে ইউরেনিয়ামকে ওয়েপনস-গ্রেড (৯০% সমৃদ্ধ) পর্যায়ে নিয়ে যেতে। রেজিমের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গোপন সূত্রে জানিয়েছেন, যুদ্ধের চাপে তারা আর অপেক্ষা করতে চান না। ইরানের কাছে এখনো প্রায় ৪৪০-৪৬০ কেজি ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত আছে, যা আরও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়েপনস-গ্রেডে রূপান্তরিত করা সম্ভব।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ইরানের নিউক্লিয়ার আলোচনাকারীরা স্বীকার করেছেন যে এই মজুত দিয়ে ১১টি নিউক্লিয়ার বোমা তৈরি করা যাবে। যদি তারা এখন সমৃদ্ধকরণ শুরু করে, তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে একটি বোমার জন্য যথেষ্ট ম্যাটেরিয়াল তৈরি হয়ে যেতে পারে। এই খবর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই হামলা ইরানকে নিউক্লিয়ার অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য।
তিনি দাবি করেছেন যে ইরানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম ‘অবলিটারেটেড’ হয়েছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে গভীর ভূগর্ভস্থ স্টকপাইল, বিশেষ করে ইসফাহানে, এখনো অক্ষত আছে এবং GBU-57-এরও সীমা রয়েছে। আইএইএ (ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, এই হামলায় নাতানজের প্রবেশপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু কোনো রেডিওলজিক্যাল দুর্ঘটনা ঘটেনি এবং ইরানের ওয়েপনাইজেশন প্রোগ্রামের কোনো স্ট্রাকচার্ড প্রমাণ নেই।



















