পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ ক্রমশই নতুন মাত্রা নিচ্ছে। (US Israel strikes)মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের একের পর এক সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে তারা এখন কার্যত দেশটির প্রতিরক্ষা কাঠামোকে ভেঙে ফেলেছে। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে চলা এই অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামো দ্রুত ধ্বংস করা হচ্ছে। এর ফলে মার্কিন বাহিনী এখন আরও গভীরে ঢুকে নির্বিঘ্নে হামলা চালাতে পারছে।
এই যুদ্ধের সূচনা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয় ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায়। প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ১,৭০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম। তাদের তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রায় ২,০০০টির কাছাকাছি লক্ষ্যবস্তুতে ২,০০০-এরও বেশি মিসাইল ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃউচ্চ মাধ্যমিকে সেমিস্টার বাতিলের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এআইডিএসও আন্দোলন
মার্কিন বাহিনীর দাবি, এই হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। সেন্টকমের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের প্রায় ৮০ শতাংশ অকেজো হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চারের ৬০ শতাংশের বেশি ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ড্রোন হামলার ক্ষমতাও প্রায় ৮৩ শতাংশ কমে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলি। এর মধ্যে রয়েছে মিসাইল লঞ্চার সাইট, ড্রোন ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার, সামরিক সদর দফতর এবং নৌবাহিনীর জাহাজ। বিশেষভাবে আঘাত করা হয়েছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিভিন্ন স্থাপনায়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। আরব সাগর, হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগর অঞ্চলে ইরানের প্রায় ১৭ থেকে ২০টি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাবমেরিনও রয়েছে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে এখন আর কোনও ইরানি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নেই বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই অভিযানকে “অভূতপূর্ব সাফল্য” বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইরানের সামরিক শক্তি এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে। ট্রাম্প বলেন, “ইরান এখন বুঝতে পেরেছে যে তারা এই যুদ্ধে পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে।”
এদিকে সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, এই অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের “শক অ্যান্ড অ’” অভিযানের তুলনায় দ্বিগুণ হামলা চালানো হয়েছে। এখন মার্কিন বাহিনী ইরানের ভেতরে আরও গভীরে ঢুকে মিসাইল উৎপাদন কারখানা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং অবশিষ্ট সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেট বলেছেন, ইরানের নৌবাহিনী সম্পূর্ণ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে এবং দেশটির মিসাইল উৎপাদন ক্ষমতা নির্মূল করা হবে।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সেই হামলার তীব্রতা অনেকটাই কমে গেছে। ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে বলে জানানো হয়েছে। তবুও ইরান গাল্ফ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি, ইসরায়েল এবং অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করছে, যদিও বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আটকে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের ধোঁয়া এবং আতঙ্কের ছবি সামনে আসছে। শহরের বহু এলাকা প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর দেশটিতে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে সামরিক নেতৃত্বের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।



















