ওয়াশিংটন: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে (Steve Daines)। এই আবহেই একজন প্রভাবশালী মার্কিন সেনেটরের সরাসরি মন্তব্য সবার দৃষ্টি কেড়েছে। রিপাবলিকান সেনেটর স্টিভ ডেইনস সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নিজের ফোন হাতে নিয়ে বলেছেন, “চিনে যাওয়ার সময় আমি এই ফোন ওয়াশিংটনে রেখে যাই। কিন্তু ভারতে যাওয়ার সময় এটি সঙ্গে নিয়ে যাই।
এটাই দেখায় আমি ভারতকে কতটা বিশ্বাস করি। চিনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়।”এই সাধারণ কথাটি শুধু একজন ব্যক্তির অভ্যাস নয়, বরং আমেরিকা ও চিনের মধ্যে চলতে থাকা গভীর অবিশ্বাসের প্রতিফলন। সেনেটর ডেইনস মন্টানা থেকে নির্বাচিত একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। চিনের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
আরও দেখুনঃ জুলাই মাসে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে ১২ দিন, জরুরি কাজের আগে দেখে নিন ছুটির তালিকা
তবে এখনও আমেরিকার মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থরা চিনে গেলে অস্থায়ী যোগাযোপগ মাধ্যম ব্যবহার করেন। চিনের কঠোর সাইবার নজরদারি ও গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কায় এটি এখন প্রায় নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।সেনেটর ডেইনস তাঁর বক্তব্যে ভারতকে ‘বিশ্বস্ত মিত্র’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। দুই দেশের মধ্যে কোয়াড জোট, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময় ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
ভারতে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিন্তে তাদের ডিভাইস ব্যবহার করতে পারেন, যা চিনের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।কেন চিনে এত ভয়? আমেরিকার সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চিনে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত তথ্যের কোনো গোপনীয়তা নেই। চিনা আইন অনুসারে টেলিকম কোম্পানিগুলোকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে যেকোনো সময় তথ্য দিতে হয়।
হোটেলের রুম, গাড়ি কিংবা পাবলিক ওয়াই-ফাই সবকিছুতেই নজরদারির আশঙ্কা। অনেক মার্কিন প্রতিনিধি দল চিন সফরে গিয়ে ‘ডিজিটাল লকডাউন’ মেনে চলে। ব্যক্তিগত ডিভাইস না নিয়ে শুধু প্রয়োজনীয় অস্থায়ী ফোন ব্যবহার করেন।অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক ভিন্ন মাত্রায়।
দুই দেশের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সেনেটর ডেইনসের মন্তব্যে এই বাস্তবতাই উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, ভারতে গেলে তাঁর ফোন সঙ্গে থাকে কারণ তিনি জানেন, সেখানে তাঁর তথ্য নিরাপদ। এটি শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নয়, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বেরও প্রতীক।





