মহারাষ্ট্র: মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলার (Gadchiroli)ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা মাওবাদীদের একটি গোপন অস্ত্র তৈরির ইউনিট সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে পুলিশ ও সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)। এই অভিযানে প্রায় ৫ থেকে ৬ টন অস্ত্র তৈরির কাঁচামাল, একটি ভারী লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়েছে।
এটি মাওবাদীদের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অধীনে চলা সাম্প্রতিক অভিযানের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।গত ২৬-২৭ জুন বালবেদা জঙ্গল এলাকায় মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড় সীমান্তের কাছে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে গড়চিরোলি পুলিশের ছয়টি টিম, প্রানহিতা স্পেশাল অপারেশন ইউনিট, বোম্ব ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজাল স্কোয়াড (বিডিডিএস) এবং সিআরপিএফের সদস্যরা অংশ নেন।
আরও দেখুনঃ জুলাই মাসে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে ১২ দিন, জরুরি কাজের আগে দেখে নিন ছুটির তালিকা
এলাকা ঘিরে ফেলার পর বিডিডিএস টিম গভীর অনুসন্ধান চালিয়ে মাটির নিচে লুকানো কারখানাটি খুঁজে বের করে।উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি প্রায় ৫-৬ টন ওজনের ভারী লেদ মেশিন, ১৫০টি ক্লেমোর ও বিজিএল (ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার) পাইপ, ২২০টি ১২-বোর পাইপ, ২০টি রাইফেল রডের মেটাল স্ট্রিপস এবং অন্যান্য অস্ত্র তৈরির যন্ত্রপাতি।
মাওবাদীরা এই সরঞ্জাম ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরি করছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। সবকিছু ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করে দেওয়া হয় যাতে ভবিষ্যতে এগুলো আর ব্যবহার করা না যায়।গদচিরোলির পুলিশ সুপার এম. রমেশ অভিযানে অংশ নেওয়া সকল সদস্যদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের অভিযান মাওবাদীদের লজিস্টিক সাপোর্টকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
জঙ্গলের গভীরে লুকিয়ে থাকা এই কারখানাগুলো তাদের আক্রমণের ক্ষমতা বাড়াত। এখন তা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা আরও বাড়বে।” অতিরিক্ত এসপি (অপারেশনস) কার্তিক মাধিরা, অতিরিক্ত এসপি গোকুল রাজ এবং ডেপুটি এসপি বিশাল নাগারগোজের নেতৃত্বে অভিযানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার মাওবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অধীনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। গড়চিরোলি জেলা একসময় মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তাদের সংগঠন অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক মাওবাদী নেতা-কর্মী আত্মসমর্পণ করেছেন বা ধরা পড়েছেন। এই সাফল্যের পেছনে পুলিশের গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয়দের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।





