যুদ্ধের আগুনে বিধ্বস্ত কাতার! আগামী ৫ বছরেও কাটবে না এলপিজি বিভ্রাট

দুবাই: মধ্যপ্রাচ্যে জ্বলছে যুদ্ধের আগুন। মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় বিধ্বস্ত ইরান। (Qatar LPG Crisis)নিহত হয়েছে আয়াতোল্লা খামেনেই সহ সামরিক বিভাগের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে কিছুতেই আত্মসমর্পনের দিকে…

qatar-lpg-crisis-middle-east-war-energy-shortage-news

দুবাই: মধ্যপ্রাচ্যে জ্বলছে যুদ্ধের আগুন। মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় বিধ্বস্ত ইরান। (Qatar LPG Crisis)নিহত হয়েছে আয়াতোল্লা খামেনেই সহ সামরিক বিভাগের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে কিছুতেই আত্মসমর্পনের দিকে ঝুঁকবে না ইরান। সৌদি সহ দুবাই, কাতারের মত দেশগুলিতে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালাচ্ছে ইরান। তেল এবং এলপিজি পরিকাঠামোর প্রায় ১৭ %ভেঙে পড়েছে।

সবচেয়ে চিন্তার ভারত সবচেয়ে বেশি এলপিজি আমদানি করে কাতার থেকে। কাতার নিজেই স্বীকার করেছে যুদ্ধ থামলেও সেই পরিকাঠামো আগের জায়গায় আনতে আগামী ৫ বছর সময় লাগবে। সুতরাং ভারতে গ্যাসের সংকট আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা এবং প্রত্যেকদিন ইরান যেভাবে যুদ্ধের মোড় ঘোরাবার চেষ্টা করছে তাতে এই জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর আক্রমণ আরও বাড়বে।

আরও দেখুনঃ ইরানকে মাত করতে ভারতের ব্রহ্মাস্ত্রে জোর সৌদির

এখনই গ্যাসের দাম ভারতে প্রায় ১০০০ ছুঁয়েছে। শুধু এলপিজি নয় সংকট দেখা দিয়েছে অ্যামোনিয়ারও, কাজেই শুধু গ্যাসের দাম নয় বাড়ছে সারের দাম। সুতরাং কূটনীতিকদের মতে ভারতে দেখা দিতে পারে গভীর খাদ্য সংকট। এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে। মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। এরপর ইরানের সামরিক শীর্ষ নেতৃত্বও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু ইরান আত্মসমর্পণ করেনি; বরং প্রতিশোধ নিতে গাল্ফ দেশগুলোর এনার্জি পরিকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় কাতারের রাস লাফানে আগুন লেগেছে, যা বিশ্বের প্রায় ২০% এলএনজি সরবরাহ করে। এতে কনডেনসেট ২৪%, হিলিয়াম ১৪% এবং অন্যান্য প্রোডাক্টও কমেছে। কাতারের এই ক্ষতি বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের রেভিনিউ লস, এবং ফোর্স মেজিয়র ঘোষণা করে অনেক লং-টার্ম কন্ট্রাক্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক। তার প্রায় ৬০% এলপিজি আমদানি হয় গাল্ফ থেকে প্রধানত কাতার, সৌদি আরব, ইউএই এবং কুয়েত থেকে। সুতরাং পরিস্থিতি অনুযায়ী মার্চ ২০২৬-এর শুরুতে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দিল্লিতে ৯১৩ টাকা ছুঁয়েছে। রেস্তোরাঁ, হোটেল, ছোট ব্যবসা মার খাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা সাধারণ পরিবারের রান্নার জ্বালানি হিসেবে গ্যাস পাওয়া দুস্কর হয়ে গিয়েছে।

কমার্শিয়াল ইউজারদের সাপ্লাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, হাউজহোল্ডকে প্রায়োরিটি দেওয়া হচ্ছে। প্যানিক বুকিং-এর কারণে একদিনে ৮৭ লক্ষ সিলিন্ডার বুক হয়েছে। সুতরাং এই যুদ্ধ আবহে ভবিষ্যতে মোদী সরকার কি সিদ্ধান্ত নেন কিংবা এলপিজির বিকল্প হিসেবে মেক ইন ইন্ডিয়ার দৌলতে ভারতবাসীর হাতে কি পৌঁছবে তা সময়ই বলবে।