অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য। যুদ্ধ দিনের পর দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। (BrahMos Missile)মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব মারা গেলেও তারা দমবার পাত্র নয়। ক্রমান্বয়ে তারা হামলা চালাচ্ছে সৌদির জ্বালানি পরিকাঠামোর উপরে। তাই এই আবহে ইরানকে আটকাতে ভারতের দ্বারস্থ সৌদি। সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ভারতের ব্রহ্মোস সুপারসোনিক ক্রুজ মিসাইল কেনার প্রবল আগ্রহ দেখাচ্ছে।
ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপারসোনিক ক্রুজ মিসাইল ব্রহ্মোস, এখন গাল্ফ দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কৌশলে একটা বড় অস্ত্র হিসেবে দেখছে সে দেশের সরকার। বিশেষ করে ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে চাইছে, এবং ব্রহ্মোসকে তারা ‘ইরানকে মাত করার’ একটা শক্তিশালী হাতিয়ার বলে মনে করছে।
আরও দেখুনঃ কেরালার বধ করে পাঁচে উঠল পাঞ্জাব, ছয়ে নামল ইস্টবেঙ্গল
ব্রহ্মোস মিসাইলের বিশেষত্ব হলো এর গতি ম্যাক ২.৮ থেকে ৩.০ পর্যন্ত, যা শত্রুর ডিফেন্স সিস্টেমকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। এটা ল্যান্ড, শিপ এবং এয়ার প্ল্যাটফর্ম থেকে লঞ্চ করা যায়, এবং এর রেঞ্জ ২৯০-৪৫০ কিলোমিটার (এক্সপোর্ট ভার্সনে সীমিত)। গাল্ফ দেশগুলোর জন্য এটা বিশেষভাবে আকর্ষণীয় কারণ ইরানের সঙ্গে তাদের দূরত্ব কম, এবং হরমুজ প্রণালী বা পারস্য উপসাগরে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার জন্য এই মিসাইল আদর্শ।
সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, সৌদি আরব, কাতার এবং ইউএই-এর মধ্যে আলোচনা চলছে কেউ কেউ কোস্টাল এবং নেভাল ভ্যারিয়েন্ট চাইছে। এই আগ্রহ ২০২০ সাল থেকেই ছিল, কিন্তু ২০২৫-২০২৬-এ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এটা আরও তীব্র হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি নীতিতে ব্রহ্মোস একটা বড় সাফল্য। ফিলিপাইন্স এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ডিল হয়েছে, ভিয়েতনামের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এখন মধ্যপ্রাচ্যে এর চাহিদা দেখিয়েছে যে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ অস্ত্র বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের কর্মকর্তারা বলছেন যে, ইউএই-এর সঙ্গে আলোচনা অ্যাডভান্সড স্টেজে, এবং সৌদি-কাতারও আগ্রহী। এই দেশগুলো ইতিমধ্যে আমেরিকা থেকে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনছে যেমন থাাড, প্যাট্রিয়ট, এফ-১৬ কিন্তু ব্রহ্মোসের মতো সুপারসোনিক মিসাইল তাদের অ্যান্টি-শিপ এবং অ্যান্টি-সারফেস ক্যাপাবিলিটি বাড়াবে। ইরানের ড্রোন এবং মিসাইল হামলার পর (যেমন ইউএই-তে ৩৩৮ ব্যালিস্টিক মিসাইল ইন্টারসেপ্ট করা হয়েছে) গাল্ফ দেশগুলো নিজেদের অফেনসিভ ক্যাপাবিলিটি বাড়াতে চাইছে।



















