‘জিহাদ ভণ্ডামি!’ পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতির পর্দা ফাঁস মুফতি সাঈদ খানের

পাকিস্তানের একজন প্রভাবশালী দেওবন্দি ধর্মীয় নেতা মুফতি সাঈদ খান (Kashmir policy)। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচিত তিনি। মুফতি সাঈদ খান সম্প্রতি একটি…

mufti-saeed-khan-pakistan-kashmir-policy-hypocrisy-exposed

পাকিস্তানের একজন প্রভাবশালী দেওবন্দি ধর্মীয় নেতা মুফতি সাঈদ খান (Kashmir policy)। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচিত তিনি। মুফতি সাঈদ খান সম্প্রতি একটি বক্তৃতায় এমন সব কথা বলেছেন যা পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতি ও জিহাদের নামে চলা অপকর্মের মুখোশ খুলে দিয়েছে। বক্তৃতার শিরোনাম ছিল ‘কাশ্মীর ও আমাদের ভণ্ডামি’। এতে তিনি ১৯৯০-এর দশকে কাশ্মীরের শরণার্থী শিবিরে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন।

   

মুফতি সাঈদ খান বলেছেন, পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানের সমর্থনপুষ্ট মিলিট্যান্টরা কাশ্মীরের দুর্বল ও অসহায় মুসলিম নারীদের শোষণ করত। শিবিরে থাকা নারী ও তরুণীদের এক টুকরো রুটির বিনিময়ে যৌন সুবিধা নিতেদিতে বাধ্য করা হতো। তিনি বলেন, “একটি রুটির জন্য যৌন অনুগ্রহ এই ছিল তাদের অবস্থা।” যাদের ‘মুজাহিদ’ বলে প্রচার করা হতো, তারাই নিরীহ নারীদের উপর এই অমানবিক অত্যাচার চালাত। এই কথাগুলো শুনে অনেকেই স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন, কারণ এটি পাকিস্তান থেকে আসা একজন ধর্মীয় নেতার মুখ থেকে বেরিয়েছে।

আরও দেখুনঃ DRDO-র গোপন অস্ত্র প্রস্তুত, আকাশ থেকে অতর্কিত হামলা চালাবে শৌর্য এনজি

বক্তৃতায় মুফতি সাঈদ খান কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের দ্বিচারিতার কথা সরাসরি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, একদিকে কাশ্মীরকে ‘জিহাদের ময়দান’ বলে প্রচার করা হয়, অন্যদিকে সেখানকার মুসলিম নারীদের উপর চলা শোষণের কথা চেপে যাওয়া হয়। শরণার্থী শিবিরে খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তার অভাবে নারীরা চরম দুর্দশায় পড়েছিলেন। সেই সুযোগ নিয়ে মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীগুলো তাদের শোষণ করেছে। এই ঘটনাগুলো ‘জিহাদের’ নামে চলা ভণ্ডামির একটি কালো অধ্যায় বলে তিনি অভিহিত করেছেন।

এই বক্তৃতা পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে সাহসী স্বীকারোক্তি বলে মনে করছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন যে, এতে পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতির অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। মুফতি সাঈদ খানের ঘনিষ্ঠতা ইমরান খানের সঙ্গে থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি শুধু ঘটনার বর্ণনা করেননি, বরং এর পিছনে যে প্রতিষ্ঠানিক সমর্থন ছিল, সেটাও ইঙ্গিত করেছেন।

কাশ্মীরের ১৯৯০-এর দশক ছিল অত্যন্ত অশান্ত। হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছিলেন। উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদ বেড়ে উঠেছিল। সেই সময় অনেক নারী শুধু খাদ্যের জন্য চরম আপস করতে বাধ্য হয়েছিলেন। মুফতি সাঈদ খানের কথায় সেই যুগের নারীদের যন্ত্রণা আবার সামনে এসেছে। তিনি বলেছেন, যারা নিজেদের ধর্মীয় যোদ্ধা বলে দাবি করে, তারাই কীভাবে নিরীহ নারীদের শিকার বানিয়েছে এটাই সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি।