আমেরিকা থেকে তেল না কিনলে……! বিস্ফোরক স্বেচ্ছাচারী ট্রাম্প

পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা সংঘাতের জেরে জ্বালানি সংকট এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। (Trump)এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
Trump Middle East oil policy

পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা সংঘাতের জেরে জ্বালানি সংকট এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। (Trump)এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে দেশগুলি জ্বালানি সংকটে ভুগছে, তাদের সামনে এখন দু’টি পথ খোলা: হয় তারা আমেরিকার কাছ থেকে জ্বালানি কিনবে, নয়তো নিজেদের উদ্যোগে ইরান-নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালী থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এর অবরোধ আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রভাব ফেলেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন সামরিক অভিযানের পরপরই ইরান এই পদক্ষেপ নেয়, যার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ১০০ ডলারেরও বেশি ছুঁয়ে যায়।

   

আরও দেখুনঃ ‘জিহাদ ভণ্ডামি!’ পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতির পর্দা ফাঁস মুফতি সাঈদ খানের

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প বিশেষভাবে ব্রিটেনের নাম উল্লেখ করে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, যারা যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে, তারা এখন জ্বালানি সংকটে ভুগছে এবং তাদের উচিত “নিজেদের সাহস দেখানো”। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমাদের কাছ থেকে কিনুন, অথবা নিজেরাই গিয়ে নিয়ে আসুন।”

এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, আমেরিকা এখন তার মিত্রদের প্রতি আগের মতো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে চাইছে না। বরং ট্রাম্প সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন “নিজেদের জন্য লড়াই করতে শিখতে হবে, কারণ সবসময় আমেরিকা পাশে থাকবে না।” তাঁর এই বক্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে ইরান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশটির সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলির ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বলে খবর। শুধু তাই নয়, আমেরিকা ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনাও রয়েছে। এমনকি যারা তেহরানের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করেছে, তাদের জাহাজগুলিকেও প্রবেশে বাধা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যদি ইরান শান্তিচুক্তিতে রাজি না হয় এবং প্রণালী খুলে না দেয়, তবে মার্কিন বাহিনী ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে। তিনি বিশেষভাবে খার্গ দ্বীপ-এর কথা উল্লেখ করেছেন, যেখান থেকে ইরানের অধিকাংশ তেল রপ্তানি হয়।

যদিও হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এমনকি প্রণালী পুরোপুরি খোলা না হলেও সামরিক অভিযান থামানোর কথা ভাবছে।

অন্যদিকে, ইরান মার্কিন প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এই দাবিগুলি “অবাস্তব ও অযৌক্তিক”। পাশাপাশি, তারা ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যদি মার্কিন সেনা তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থল অভিযান চালাবে এবং সমুদ্রপথে মাইন পেতে দেবে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.