
কুয়েত: কুয়েতে হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়েছে এক অস্বস্তিকর উদ্বেগ। (nuclear precaution)দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল গার্ড জনগণের উদ্দেশে জারি করেছে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা “জানালা ও দরজা শক্ত করে বন্ধ রাখুন। ঘরের বাইরে বের হবেন না। প্রয়োজন না হলে বাড়ি থেকে বেরোনো একেবারে এড়িয়ে চলুন।” এই নির্দেশনা জারির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন কেন হঠাৎ এমন সতর্কতা?
আসলে কি পরমাণু বিস্ফোরণ বা তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে?কুয়েত ন্যাশনাল গার্ডের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এটি আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নয়, বরং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। বর্তমানে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে ইরানের নিউক্লিয়ার স্থাপনা, জ্বালানি কেন্দ্র ও অন্যান্য সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। কুয়েত ইরানের বুশেহর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে মাত্র কয়েকশো কিলোমিটার দূরে।
আরও দেখুনঃ মমতাকে গদ্দার বলে কটাক্ষ, বিজেপি কর্মীসভায় শুভেন্দুর তীব্র আক্রমণ
উত্তর-পশ্চিমা বাতাসের দিক বিবেচনায় যদি কোনো তেজস্ক্রিয় লিকেজ বা দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে দূষণ কুয়েতের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই প্রতিরক্ষা বাহিনী ও পরিবেশ কর্তৃপক্ষ সবসময় বাতাস, পানি ও মাটির তেজস্ক্রিয়তা মনিটর করছে। এখন পর্যন্ত সব মাত্রা স্বাভাবিক বলে জানানো হয়েছে, তবু সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।কুয়েতে ইতিমধ্যে ১৯৬টি অত্যাধুনিক আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সরকারি ভবনে এসব শেল্টারে বিশেষ বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, খাবার-জল, চিকিৎসা সুবিধা ও ডিকনট্যামিনেশন ইউনিট রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, যদি কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে, তাহলে জনগণকে দ্রুত এসব শেল্টারে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বর্তমানে বাতাস ও জলে কোনো অস্বাভাবিক তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া যায়নি।এই নির্দেশনার পেছনে মূল কারণ হলো আঞ্চলিক যুদ্ধের ছায়া। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আক্রমণে নিউক্লিয়ার সাইটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বুশেহর প্ল্যান্টটি পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত। যদি সেখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে তেজস্ক্রিয় ধোঁয়া বা কণা বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে, যা যুদ্ধের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে। এছাড়া কুয়েত নিজেও কয়েকবার মিসাইল ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। ফলে সরকার সবদিক বিবেচনা করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

