তেল আভিভ: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ছবিটা আবার বদলে গেল। (Israel Lebanon)ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরায়েল এবার লেবাননকে প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আমরা যুদ্ধে আছি, যুদ্ধবিরতিতে নেই। এখানে লেবাননই আমাদের প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র।”দক্ষিণ লেবাননের বিন্ট জবেইলের উপকণ্ঠে সেনাদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে জামির এই মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, “হিজবুল্লাহ জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে আমরা প্রবল তীব্রতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা স্থল অভিযান আরও গভীরে নিয়ে যাচ্ছি এবং হিজবুল্লাহকে ক্রমাগত আঘাত করে যাচ্ছি।”জামিরের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, “গতকাল আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে ঢুকেছি।
আরও দেখুনঃ পাঞ্জাব ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা, চোটের কবলে বাগানের এই তারকা
ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের অর্জন অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক।” কিন্তু তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “প্রয়োজনে আমরা আবারও শক্তি প্রয়োগ করে লড়াইয়ে ফিরে যেতে প্রস্তুত।”ইসরায়েলের এই অবস্থান লেবাননকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত গত কয়েক মাস ধরে চলছে। ইরান-সমর্থিত এই সংগঠনকে ইসরায়েল উত্তর সীমান্তের জন্য প্রধান হুমকি মনে করে। জামির বলেছেন, “উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার সঙ্গে আমরা কোনো আপস করব না।
হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখব।”লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের অভিযান এখন আরও তীব্র হয়েছে। গত কয়েক দিনে একাধিক বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান চালানো হয়েছে। বিন্ট জবেইলসহ বিভিন্ন এলাকায় আইডিএফ সেনারা অবস্থান নিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, তারা হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার এবং সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ পাল্টা রকেট হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও বেশিরভাগই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আটকে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে লেবাননের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষ ইতিমধ্যে উত্তরে সরে গেছেন। বৈরুতের রাস্তায়ও উদ্বেগের ছায়া। লেবানন সরকার এবং হিজবুল্লাহ উভয়েই ইসরায়েলের এই অবস্থানকে ‘যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। তারা দাবি করছে, ইরানের সঙ্গে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তা লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির আওতায় নেই।



















