কলকাতা: আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে আবারও বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন৷ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে একযোগে ১০০ জন পুলিশ আধিকারিককে (West Bengal Police) নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই তালিকায় রয়েছেন ৮১ জন পুলিশ ইন্সপেক্টর এবং ১৯ জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)৷ তাঁদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কোনও অবস্থাতেই ভোট সংক্রান্ত কাজে যুক্ত করা যাবে না৷
এই রদবদলের প্রভাব পড়েছে রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলায়। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, রায়গঞ্জ, ইসলামপুর, শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের বারাসত, বসিরহাট, বনগাঁ, বারাকপুর, বিধাননগর, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া সব জায়গাতেই একাধিক আধিকারিককে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷
বিশেষত বিধাননগর, বারাকপুর ও হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় একাধিক ইন্সপেক্টরকে সরানো হয়েছে৷ প্রশাসনের মতে, এই এলাকাগুলিকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল৷ শুধু ইন্সপেক্টর নয়, সাব-ইন্সপেক্টর স্তরেও একইভাবে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ বারুইপুর, সুন্দরবন, বারাসত, বনগাঁ, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, হাওড়া (গ্রামীণ), মুর্শিদাবাদ এবং বারাকপুর ডিভিশনের ১৯ জন এসআই-কে নির্বাচনী কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে৷
একনজরে দেখে নিন কোন ৮১ জন পুলিশ ইন্সপেক্টরকে নির্বাচনের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে৷ কুণালকান্তি দাস (কোচবিহার),
হেমন্ত শর্মা (কোচবিহার), উদয়শংকর ঘোষ (রায়গঞ্জ), গৌতম চৌধুরী (রায়গঞ্জ), প্রণব সরকার (রায়গঞ্জ), মনোজিৎ দাস (ইসলামপুর), সন্দীপ চক্রবর্তী (ইসলামপুর), পিনাকি সরকার (ইসলামপুর), বিরাজ মুখোপাধ্যায় (ইসলামপুর), প্রশান্ত বিশ্বাস (আলিপুরদুয়ার), সূর্যশংকর মণ্ডল (দক্ষিণ দিনাজপুর), শীর্ষেন্দু কুণ্ডু (দক্ষিণ দিনাজপুর), প্রসেনজিৎ বিশ্বাস (শিলিগুড়ি)৷
অর্ধেন্দুশেখর দে সরকার (বারুইপুর), অনুপম চক্রবর্তী (বারাসত), সুজিতকুমার পতি (বারাসত), অভিজিৎ দাস (বারাসত), রক্তিম চট্টোপাধ্যায় (বসিরহাট), রাকেশচন্দ্র সাধুখাঁ (বনগাঁ), দেবাঞ্জন ভট্টাচার্য (বারাকপুর), বিশ্বজিৎ মণ্ডল (বারাকপুর), তন্ময় ভট্টাচার্য (বারাকপুর), কৌশিক বন্দ্য়োপাধ্যায় (বারাকপুর), সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় (বিধাননগর), কল্লোল ঘোষ (বিধাননগর), শংকর নারায়ণ সাহা (বিধাননগর), বিজয়কুমার ঘোষ (বিধাননগর), জোনাকি বাগচি (বিধাননগর), সঞ্জয় কুণ্ডু (বিধাননগর)৷
সমিত মণ্ডল (কৃষ্ণনগর), , শুভ্রজিৎ মজুমদার (রানাঘাট), অরিন্দম মুখোপাধ্যায় (রানাঘাট), সৌমিত্র ঘোষ (রানাঘাট), রবীন্দ্রনাথ দোলুই (রানাঘাট), অমিতকুমার সিনহা মহাপাত্র (আসানসোল-দুর্গাপুর), দীপঙ্কর দাস (পশ্চিম মেদিনীপুর), পার্থসারথী পাল (পশ্চিম মেদিনীপুর), প্রসেনজিৎ দত্ত (পূর্ব মেদিনীপুর), রবীন্দ্রনাথ রায় (পূর্ব মেদিনীপুর), সুমন বোগী (পূর্ব মেদিনীপুর), বৈদ্যনাথ দাস (পূর্ব মেদিনীপুর), সন্দীপকুমার পাল (পূর্ব মেদিনীপুর), ফারুক রহমান (পুরুলিয়া), মহম্মদ আবদুর রোব খান (পুরুলিয়া), প্রসেনজিৎ ঘোষ (বীরভূম)৷
শিবু ঘোষ (বীরভূম), উৎপল সাহা (জলপাইগুড়ি), সুমন দাস (মালদহ), অভিজিৎ দত্ত (মালদহ), অনুপ ঘোষ (মালদহ), দেবাশিস পাণ্ডা (বাঁকুড়া), রাকেশ সিং (হুগলি গ্রামীণ), সঞ্জয় শ্রীবাস্তব (চন্দননগর), সুদীপ্ত চক্রবর্তী (চন্দননগর), অমিতাভ সান্য়াল (চন্দননগর), শান্তনু বসু (হাওড়া), বিশ্বজিৎ ঘোষ (হাওড়া), অনির্বাণ হালদার (হাওড়া), মহেশ দাস (হাওড়া), সৈয়দ আহসান কবীর (হাওড়া গ্রামীণ), সঞ্জয় কুমার দে (হাওড়া গ্রামীণ), ধীমান বৈরাগী (হাওড়া গ্রামীণ), অভিজিৎ বসু মল্লিক (ঝাড়গ্রাম), মহম্মদ মহিবুল ইসলাম (মুর্শিদাবাদ)৷
এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন সুদীপ সিং (মুর্শিদাবাদ), মৃণাল সিনহা (মুর্শিদাবাদ), সমিত তালুকদার (মুর্শিদাবাদ), অমলেন্দু বিশ্বাস (পূর্ব বর্ধমান), শেখ শিহাবউদ্দিন (পূর্ব বর্ধমান), অমরজিৎ বিশ্বাস (পূর্ব বর্ধমান), পার্থসারথী মণ্ডল (শিলিগুড়ি), অনির্বাণ বসু (ডায়মন্ড হারবার), অশোকতরু মুখোপাধ্যায় (বারুইপুর), পার্থপ্রতীম রায় (কৃষ্ণনগর), মানস চৌধুরী (কৃষ্ণনগর), প্রশান্ত কীর্তনীয়া (কৃষ্ণনগর)৷
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন একই জেলায় কর্মরত থাকা বা অতীতে অভিযোগ থাকা আধিকারিকদের ক্ষেত্রেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে৷ এই ১০০ জন আধিকারিককে শুক্রবার দুপুর তিনটের মধ্যে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে৷




















