ইরানি মিসাইলের আঘাতে ধ্বংসস্তূপ ইসরায়েলের আবাসিক ভবন

iran-missile-hits-haifa-residential-building

হাইফা: সোমবার সকালে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হাইফার আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। (Iran missile)৫ এপ্রিল রাতে ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইল সরাসরি আঘাত হানে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে। মিসাইলের ভয়াবহ বিস্ফোরণে ভবনের একাংশ ধসে পড়ে, চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসস্তূপ, ভাঙা কাচ ও ধুলোর মেঘ। ইসরায়েলি প্যারামেডিক ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

কেউ কেউ চিৎকার করে সাহায্য চাইছেন, আর কেউ নীরবে ধুলোয় ঢাকা পড়ে আছেন।প্যারামেডিকরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে অন্তত নয়জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে একজন বয়স্ক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন ভারী বস্তুর আঘাতে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যরা শার্পনেল ও বিস্ফোরণের ধাক্কায় আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে শকের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী দল দুজনের মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করেছে।

   

আরও দেখুনঃ আর্জেন্টিনার মাটিতে প্রথম MMA জয় ভারতের

আরও দুজনের খোঁজ চলছে তাঁরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ঘটনার পরপরই হাইফার ওই এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডোমের (ইসরায়েলের জাতীয় জরুরি সেবা) টিম দ্রুত পৌঁছে যায়। উদ্ধারকারীরা হাতে হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মানুষদের বের করার চেষ্টা করছেন। ভবনের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের সারি, সাইরেনের আওয়াজ আর ধুলোয় ঢাকা মুখ নিয়ে ছুটে বেড়ানো উদ্ধারকর্মীদের ছবি যেন যুদ্ধের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে কাঁপছেন। অনেকে বলছেন, “আমরা শান্তিতে ঘুমাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আকাশ থেকে মৃত্যু নেমে এল।”এই হামলা ইরানের পাল্টা আক্রমণের অংশ। ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় আঘাত হানার পর ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে প্রতিশোধ নিচ্ছে। হাইফা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও শিল্পকেন্দ্র। এখানে বেসামরিক আবাসিক এলাকায় মিসাইল আঘাত হানা ইরানের লক্ষ্য যে শুধু সামরিক নয়, বেসামরিক জনজীবনকেও বিপন্ন করা তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধ “একবারের সুযোগ”। তিনি ইরানকে “নাৎসি শাসন” বলে অভিহিত করে দাবি করেছেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাব।হাইফার এই ঘটনা পুরো ইসরায়েলজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে ইতিমধ্যে শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।

হাইফায় আবাসিক ভবনে আঘাতের ফলে সাধারণ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হয়েছে। অনেক পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। শিশুরা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে, বয়স্করা ঘর থেকে বেরোতে সাহস পাচ্ছেন না।উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। পরমেডিকরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও আহতদের বের করার চেষ্টা করছেন। হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে, তবু কিছু মিসাইল ফাঁক গলে ভিতরে ঢুকে পড়ছে।