কুয়েত সিটি: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আগুন এবার ছড়িয়ে পড়েছে কুয়েতেও। (Iran drone attack)শনিবার, ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেডব্লিউআই) লক্ষ্য করে একাধিক ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় বিমানবন্দরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেমে ‘গুরুতর ক্ষতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে কুয়েতের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। তবে সৌভাগ্যবশত এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা (KUNA) এবং সিভিল এভিয়েশন অথরিটির মুখপাত্র আবদুল্লাহ-আল-রাজহি জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন আঘাত হানে। রাডার সিস্টেম বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। এর ক্ষতির ফলে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেকগুলো উড়ান বাতিল বা বিলম্বিত করতে হয়েছে এবং নিরাপত্তার কারণে নতুন করে উড়ান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরও দেখুনঃ ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর ভারতীয় সেনার, জেসিবি থেকে কিনবে ৯৩টি টেলিস্কোপিক হ্যান্ডলার
কুয়েতি কর্মকর্তারা হামলার জন্য ইরান ও তার আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন। এটি ইরানের পক্ষ থেকে আমেরিকা এবং ইসরায়েলের আক্রমণের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ । গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান বিভিন্ন গাল্ফ দেশের পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার অন্ধকারে আকাশে ড্রোনের শব্দ শোনা যায় এবং তারপরই বিস্ফোরণের আওয়াজ। বিমানবন্দরের রাডার সিস্টেমের কাছে ধোঁয়া দেখা গেছে। জরুরি দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, হামলায় কোনো যাত্রী বা কর্মী আহত হননি, তবে পরিকাঠামোগত ক্ষতি মেরামত করতে সময় লাগবে।ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব হামলা প্রতিরক্ষামূলক এবং তাদের ওপর চলমান আগ্রাসনের জবাব।
অন্যদিকে গাল্ফ দেশগুলো এই ধরনের আক্রমণকে ‘অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। কুয়েত সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্য চেয়েছে এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগ কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এখান দিয়ে যাতায়াত করেন।
রাডার সিস্টেমের ক্ষতির ফলে আঞ্চলিক বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়তে পারে। অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কুয়েতকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে। এখন যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিমান সংস্থাগুলো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।



















