তেহরান: আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত যত তীব্র হচ্ছে, ওয়াশিংটনের কৌশলগত সমীকরণের কেন্দ্রে এবার উঠে আসছে পারস্য উপসাগরের একটি ছোট্ট দ্বীপ। নাম, ‘খার্গ দ্বীপ’ বা খার্গ আইল্যান্ড (Kharg Island)।
কেন নজরে এই দ্বীপ?
সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ইরানের সামরিক এবং পারমাণবিক ঘাঁটিগুলোতে লাগাতার হামলা চললেও, ইরানের তেল রফতানির প্রধান কেন্দ্র এই খার্গ দ্বীপ এখনও পর্যন্ত মূলত অক্ষত রয়েছে। তবে ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবার এই দ্বীপের আশেপাশে নতুন সামরিক বিকল্পের কথা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে তেহরানের বিরুদ্ধে বৃহত্তর যুদ্ধ কৌশলের অংশ হিসেবে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের গোপন অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও প্রবল হচ্ছে।
কী এই খার্গ দ্বীপ? কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ? Kharg Island Iran oil export hub
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই ছোট দ্বীপটি ইরানের উপকূল থেকে মাত্র ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আকারে অতি ক্ষুদ্র হলেও, ইরানের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এই দ্বীপের ভূমিকা অপরিসীম৷ ইকোনমিক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি ইরানের অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রধান টার্মিনাল বা হাব হিসেবে কাজ করে। আশ্চর্যের বিষয় হল, গোটা ইরানের তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই পরিচালিত হয় এই একটিমাত্র দ্বীপ থেকে।
এই দ্বীপের লোডিং টার্মিনালগুলি এতটাই বিশাল যে, সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লক্ষ (৭ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল জাহাজে বোঝাই করে রফতানি করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা বা ইজরায়েল যদি সত্যিই এই খার্গ দ্বীপে বড়সড় আঘাত হানে, তবে তা সরাসরি ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার সামিল হবে।



















