তেহরান: তেহরানের কাছে কারাজ শহরের কাছে অবস্থিত বি১ সেতুতে বিশাল আক্রমন। (Iran bridge airstrike)যা পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে উঁচু সেতু হিসেবে পরিচিত আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতুটির মাঝখানের অংশ প্রায় অর্ধেক কেটে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। এই হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন বলে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সেতুটি তেহরান ও কারাজের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের সংযোগস্থল ছিল।
১৩৬ মিটারেরও বেশি উঁচু এই সাসপেনশন সেতুটি ইরানের একটি আধুনিক প্রকৌশলের প্রতীক। সম্প্রতি নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল। প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু তেহরানের যানজট কমাতে এবং উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু ২ এপ্রিল দুই দফায় চালানো হামলায় সেতুটি ধ্বংস হয়ে যায়।
আরও দেখুনঃ Kalyan Banerjee: “অমিত শাহের ‘চাণক্য’ জনপ্রিয়তা ক্ষয় হচ্ছে”, বিস্ফোরক কল্যাণ
প্রথম হামলার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দ্বিতীয় হামলা চালানো হয় বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নওরুজ উৎসবের শেষ দিন সিজদাহ বে-দার উপলক্ষে অনেকে পরিবার নিয়ে সেতুর কাছে পিকনিক করছিলেন। হঠাৎ আকাশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত করলে বিশাল বিস্ফোরণ হয়। ধোঁয়া ও আগুনের মেঘে চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়।
আহতদের মধ্যে অনেকে নারী ও শিশু রয়েছেন।ইরানি কর্মকর্তারা এই হামলাকে “বেসামরিক পরিকাঠামোর ওপর সরাসরি আগ্রাসন” বলে নিন্দা করেছেন। বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “এটা শত্রুপক্ষের নৈতিক অধঃপতনের প্রমাণ।” তেহরান দাবি করেছে, সেতুতে কোনো সামরিক তৎপরতা ছিল না।
অন্যদিকে আমেরিকান সূত্র জানিয়েছে, এই সেতু ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট ছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, “ইরানের সবচেয়ে বড় সেতু ধ্বংস হয়ে গেল। আরও অনেক কিছু আসছে। ইরানের উচিত এখনই চুক্তি করা, নইলে দেশটি পাথরের যুগে ফিরে যাবে।”



















