সেনানায়ক না রাষ্ট্রনায়ক! পোশাক বিতর্কে বহুরূপী মুনির

ইসলামাবাদ: তিনি যে মুখে এক মনে আরেক তা জানে বিশ্বের মানুষ। (Asim Munir)এবার সেই বহরূপী আসিম মুনিরের পোশাক নিয়েই উঠল বিতর্ক। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান এবং আমেরিকার শান্তি ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
asim-munir-uniform-diplomacy-pakistan-iran-us-talks

ইসলামাবাদ: তিনি যে মুখে এক মনে আরেক তা জানে বিশ্বের মানুষ। (Asim Munir)এবার সেই বহরূপী আসিম মুনিরের পোশাক নিয়েই উঠল বিতর্ক। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান এবং আমেরিকার শান্তি বৈঠক ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ভিন্নধর্মী আলোড়ন। একদিকে Iইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দল দুই পক্ষই হাজির হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য। কিন্তু আলোচনার বিষয়বস্তুর চেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের ভূমিকা ও তার ‘ইউনিফর্ম ডিপ্লোম্যাসি’।

ঘটনার শুরুতেই নজর কাড়ে একটি বিষয়। এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানোর দায়িত্ব নেননি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বরং সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন সেনাপ্রধান মুনির। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী যা বেশ অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

   

আরও দেখুনঃ CSK vs DC: দিল্লির বিরুদ্ধে প্রথম জয়ের জন্য উদগ্রীব চেন্নাই, পারবে কি খাতা খুলতে?

তবে আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে মুনিরের পোশাক নির্বাচন। ইরানের প্রতিনিধিদল যখন ইসলামাবাদে পৌঁছায়, তখন তিনি পরেছিলেন সামরিক কমব্যাট ইউনিফর্ম। অথচ কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রতিনিধি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স তাঁদের অভ্যর্থনা জানাতে দেখা যায় মুনিরকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে কালো স্যুট-বুটে একেবারে কূটনীতিকের মতো।

এই পোশাক পরিবর্তনকে নিছক কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত বার্তা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা ও অতীতের সংঘাতের প্রেক্ষিতে মুনির কমব্যাট পোশাক পরে নিজেকে ‘সেনানায়ক’ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। অন্যদিকে, আমেরিকার প্রতিনিধিদের সামনে স্যুট পরে তিনি নিজেকে ‘রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা চরমে ওঠে। ইরান বালুচিস্তানে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায়, যার পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তানও। সেই ঘটনার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যেই রয়েছে। ফলে ইরানের প্রতিনিধিদের সামনে মুনিরের সামরিক পোশাককে অনেকেই শক্তির প্রদর্শন হিসেবেই দেখছেন।

অন্যদিকে, আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বরাবরই কৌশলগত। মার্কিন নেতৃত্বের সামনে নিজেকে কেবল সেনাপ্রধান নয়, বরং একজন কূটনীতিক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন মুনির এমনটাই মত অনেক বিশেষজ্ঞের। অতীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎকালেও মুনিরকে স্যুট পরতে দেখা গিয়েছিল।

তবে এই পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বড় যে বার্তাটি উঠে এসেছে, তা হল পাকিস্তানের ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন। বিশ্লেষকদের মতে, মুনির যেন বোঝাতে চাইছেন দেশের প্রকৃত ক্ষমতা তার হাতেই কেন্দ্রীভূত। বিদেশি প্রতিনিধিদের সরাসরি অভ্যর্থনা জানানো, তাদের সঙ্গে পাশাপাশি হেঁটে কথা বলা সবটাই যেন সেই বার্তাকেই জোরালো করে। অনেকে আবার এই ঘটনাকে পাকিস্তানের অতীতের সামরিক শাসনের স্মৃতি হিসেবে দেখছেন। জিয়া উল হক বা পারভেজ মুশারফের আমলে যেমন সেনাপ্রধানরাই আন্তর্জাতিক কূটনীতির মুখ হয়ে উঠতেন, ঠিক তেমনই ছবি আবারও সামনে আসছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.