হরমুজে মধ্যস্থতার প্রস্তাব আনা পাকিস্তানের জাহাজ আটকে দিল ইরান

iran-blocks-selen-ship-strait-of-hormuz-pakistan-route

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। (Iran blocks SELEN)ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) নৌবাহিনী পাকিস্তানগামী একটি কনটেইনার জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হতে বাধা দিয়েছে। জাহাজটির নাম ‘সেলেন’ (SELEN)। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দর থেকে করাচির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এই জাহাজটিকে প্রণালীর প্রবেশপথে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজটি আইনি প্রোটোকল মানেনি এবং ট্রানজিটের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেয়নি।

IRGC নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যালিরেজা তাঙ্গসিরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন, “কনটেইনার জাহাজ সেলেনকে আইনি প্রোটোকল না মানার কারণে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি ছিল না।” জাহাজটি AIS ট্র্যাকিং অনুসারে শারজাহ অ্যাঙ্করেজ থেকে করাচির দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু প্রণালীর ইরান-নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক লেনের কাছে পৌঁছানোর পর তাকে ফিরে যেতে হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ শিশুমন থেকে মায়ের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে তুলতে মাতৃপুজন ভারত সেবাশ্রমে

বর্তমানে জাহাজটি কেশম দ্বীপের কাছে নোঙর করে আছে।এই ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত চরমে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহন করে। ইরান এখন প্রণালীতে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। তারা বলছে, ‘নন-হোস্টাইল’ জাহাজগুলোকে আগাম অনুমতি নিয়ে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে টোল দিয়ে যেতে দেওয়া হবে। কিন্তু যেসব জাহাজ ইসরায়েল বা আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়, তাদের জন্য দরজা বন্ধ।

সেলেন জাহাজটি এই নিয়ম মানেনি বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।পাকিস্তানের জন্য এই ঘটনা বেশ অস্বস্তিকর। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির শান্তি প্রস্তাব দিয়ে বলেছেন যে, তার দেশ ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন। অথচ ঠিক এই সময়ে ইরান পাকিস্তানগামী জাহাজকে বাধা দিল। এতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

করাচি বন্দরে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।হরমুজ প্রণালীতে এমনিতেই জাহাজ চলাচল অনেক কমে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকাংশ ট্যাঙ্কার আটকে আছে। কিছু দেশ যেমন চীন, ভারত ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপদ পথ পেয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান হয়তো নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

তারা প্রণালীকে ‘খোলা’ রাখার নামে নিজস্ব নিয়ম চাপিয়ে দিচ্ছে। কিছু জাহাজকে টোল দিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে, যা অনেকটা ‘টেহরান টোল বুথ’ বলে মজা করে বলা হচ্ছে।এই ঘটনা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্যও উদ্বেগজনক। হরমুজ বন্ধ বা সীমিত থাকলে তেলের দাম বাড়বে, সরবরাহ চেইন বিপর্যস্ত হবে। পাকিস্তানের মতো দেশগুলো যেখানে জ্বালানি আমদানির উপর অনেকাংশ নির্ভরশীল, সেখানে এমন বাধা অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবে। পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেছে। তারা চাইছে দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক।