পুলওয়ামা চক্রী বুরহানের শেষকৃত্যে কুখ্যাত জঙ্গিদের চাঁদের হাট

শ্রীনগর: কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদী ইতিহাসে এক বিরল ও উদ্বেগজনক ঘটনা। (Hamza Burhan)হিজবুল মুজাহিদিনের প্রখ্যাত কমান্ডার ও জঙ্গি মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহানের জানাজায় পরিণত হয়েছে শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতাদের বড় সমাবেশে। এই ...

By Sudipta Biswas

Published:

Updated:

Follow Us
hamza-burhan-funeral-pulwama-terror-leaders

শ্রীনগর: কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদী ইতিহাসে এক বিরল ও উদ্বেগজনক ঘটনা। (Hamza Burhan)হিজবুল মুজাহিদিনের প্রখ্যাত কমান্ডার ও জঙ্গি মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহানের জানাজায় পরিণত হয়েছে শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতাদের বড় সমাবেশে। এই জানাজায় হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন, আল বদর প্রধান বখত জামিন খানসহ লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের উচ্চপদস্থ নেতারা উপস্থিত ছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

<

   

হামজা বুরহানকে কাশ্মীর উপত্যকায় একজন কুখ্যাত জঙ্গি হিসেবে বিবেচনা করা হত। তাঁর মৃত্যুর পর জানাজায় যেভাবে একাধিক মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা একত্রিত হয়েছেন, তা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সূত্র জানিয়েছে, জানাজায় প্রায় শতাধিক সশস্ত্র জঙ্গি মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের অনেকের হাতেই ছিল একে-৪৭ রাইফেল।

আরও দেখুনঃ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পঞ্জাব, প্রতিপক্ষ লখনউ

অজানা বন্দুকধারীদের আক্রমণের আশঙ্কায় এই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জানাজার অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হয়। সৈয়দ সালাহউদ্দিন তো বটেই, অন্যান্য সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও হামজা বুরহানের ‘অবদানের’ প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন। এই ধরনের উন্মুক্ত সমাবেশ দেখিয়ে দিচ্ছে যে কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক এখনও যথেষ্ট সক্রিয় এবং সংগঠিত।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রমাণ। হিজবুল, আল বদর, লস্কর ও জইশের মতো সংগঠনগুলো একই মঞ্চে এসে দাঁড়ানো সাধারণ ঘটনা নয়। এতে স্পষ্ট হয় যে হামজা বুরহান শুধু একজন স্থানীয় কমান্ডার ছিলেন না, বরং বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করতেন।ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সেনা ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জানাজার ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে সব নেতার অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকেএ) এই জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভারতীয় বাহিনীর পক্ষে সরাসরি অভিযান চালানো কঠিন।স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এই সমাবেশকে ‘শহীদদের সম্মান’ বলে বর্ণনা করলেও, অধিকাংশ সাধারণ মানুষ এতে আতঙ্কিত। এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, “এতগুলো বড় বড় জঙ্গি নেতা এক জায়গায় জড়ো হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? যেকোনো সময় অভিযান হতে পারে।”

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google