‘আবর্জনা’য় পরিণত আমেরিকার সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্টিলথ ফাইটার জেট এফ-৩৫

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান শক্তির মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত এফ-৩৫ (F-35) স্টিলথ যুদ্ধবিমানটি (F-35 Fighter Jet) রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাইওয়ানকে…

iran-reward-capturing-us-pilot-f35-claim-tension

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান শক্তির মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত এফ-৩৫ (F-35) স্টিলথ যুদ্ধবিমানটি (F-35 Fighter Jet) রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে কোনো যুদ্ধে জড়ালে চিনের সাথে সংঘাতের মুখে যুক্তরাষ্ট্র পরাজয়ের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস’ (GAO)-এর এ মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফ-৩৫ (F-35) কর্মসূচির আওতায় থাকা যুদ্ধবিমানগুলোর ‘পূর্ণ মিশন-সক্ষমতা’র (full mission-capable) হার ২০২১ অর্থবছরের ৩৮ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এর অর্থ হলো, বর্তমানে মাত্র ২৫ শতাংশ বিমানই বিভিন্ন অভিযান বা মিশন পরিচালনার সক্ষমতা রাখে।

এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রতি চারটি এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমানের মধ্যে মাত্র একটি বিমান তার সমস্ত যুদ্ধকালীন ভূমিকা (যেমন—বোমা বর্ষণ, আকাশযুদ্ধ ও গোয়েন্দা নজরদারি) পালনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। বাকি ৭৫ শতাংশ বিমান কারিগরি দিক থেকে পুরোপুরি সক্ষম নয়। সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, চিনের ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’ যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান শুরু করে, তবে তা রক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হবে।

   

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়া এবং ঠিকাদারদের ওপর তদারকিতে ঘাটতির কারণে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তকারীরা দেখেছেন যে, পুরো নৌবহরের কার্যপ্রস্তুতির মান ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে মিশন-সক্ষমতার হার ৬৭ শতাংশ থেকে কমে ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২১ সালে বিমানবহরের ৬৭ শতাংশ বিমান অন্তত একটি মিশন পরিচালনার জন্য প্রস্তুত ছিল; বর্তমানে এই হার কমে মাত্র ৪৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।