কলকাতা: সোমবার রাজ্য বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে নবনির্বাচিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জমানায় এই বাজেট ঘিরে এখন প্রবল জল্পনা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্দরে। মূল আকর্ষণ, মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে সরকার কী ঘোষণা করে? প্রশাসনিক মহলের খবর, রাজ্যের বর্তমান বিপুল ঋণের বোঝা ও আর্থিক সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে একলপ্তে বকেয়া ৪২ শতাংশ ডিএ মেটানো কার্যত অসম্ভব। তাই বাজেটে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির পথেই হাঁটতে পারে সরকার। বাকি বকেয়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে মেটানোর একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও এই বাজেটে পেশ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। (West Bengal Budget 2026 DA Hike for State Government Employees)
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে ডিএ-জট সম্পূর্ণ কাটাতে তিন দফায় বকেয়া মেটানোর কৌশল নিতে পারে নবান্ন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএ বাবদ রাজ্যের বকেয়া ছিল ৪১ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও, এখনও ৩৫ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকার বিশাল দায় রয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে গেলে রাজকোষে যে বিপুল চাপ পড়বে, তা সামাল দিতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের ভাবনাও রয়েছে প্রশাসনের অন্দরে।
কিন্তু এই বিপুল অর্থের জোগান আসবে কোথা থেকে? জিএসটি এবং আবগারি খাতে রাতারাতি আয় বৃদ্ধির সুযোগ খুবই সীমিত। তাই সরকারের নজর এখন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর দিকে। বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তা ছেঁটে ফেলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ থেকে আয় বাড়ানো এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কর আদায়েও জোর দেওয়া হবে। গত ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী বাজেটে ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৮৪ কোটি টাকার ব্যয়বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটের আকার সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
রাজ্যের আর্থিক বোঝা কমাতে নয়া সরকারের অন্যতম হাতিয়ার হতে চলেছে কেন্দ্রীয় প্রকল্প। বাজেটে পূর্বতন সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’, ‘কৃষকবন্ধু’, ‘স্বাস্থ্যসাথী’-র মতো প্রকল্পগুলির বদলে সমতুল্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি এ রাজ্যে পুরোপুরি কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হবে। এর ফলে রাজ্যের নিজস্ব আর্থিক দায় অনেকটাই কমবে এবং বিভিন্ন দফতরে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বাড়বে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সামাজিক সুরক্ষা খাতে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ছাড়া অন্য কোথাও বড় বরাদ্দের সম্ভাবনা আপাতত কম। প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল ঋণের ভার সামলাতে রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপও সোমবারের বাজেটে তুলে ধরতে পারে রাজ্য সরকার।



