নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব বিপ্লব। (India Defence)২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের ফলে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন প্রায় চার গুণ বেড়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যেখানে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৩,৭৪৬ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা পৌঁছেছে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়। এই অসাধারণ উত্থান ভারতকে আমদানিনির্ভরতা থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে নিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বের এক উদীয়মান প্রতিরক্ষা উৎপাদন শক্তিতে পরিণত করছে।
একসময় ভারত তার প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করত। কিন্তু মোদি সরকারের আমলে নীতিগত সংস্কার, বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় উৎপাদনে জোর দেওয়ার ফলে চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। আজ দেশে তৈরি হচ্ছে আধুনিক যুদ্ধবিমানের অংশ, ট্যাঙ্ক, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার, ড্রোন এবং নৌবাহিনীর জাহাজ। এই উৎপাদন বৃদ্ধি শুধু সংখ্যায় নয়, গুণগত মানেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনেছে।
আরও দেখুনঃ সোনা-রুপোর বাজারে বিরাট ধস! এক ধাক্কায় অনেকটা কমল দাম
বর্তমানে পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস (PSUs) এখনও মোট উৎপাদনের ৭৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। হ্যাল, বেল, ডিআরডিও, মাজাগন ডক প্রভৃতি সংস্থাগুলো নতুন প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতও দ্রুত এগোচ্ছে। টাটা, অ্যাদানি, লারসেন অ্যান্ড টুব্রোর মতো বড় শিল্পগোষ্ঠী এখন প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বড় বিনিয়োগ করছে। ফলে ছোট-বড় হাজার হাজার এমএসএমইও এই ইকোসিস্টেমের অংশ হয়ে উঠছে।
এতে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, বিশেষ করে যুবকদের জন্য।সাম্প্রতিক বড় খবর হলো, ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল চুক্তি সক্রিয়ভাবে বিবেচনাধীন। এটি অনুমোদিত হলে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ক্রয় হবে। ফ্রান্সের সঙ্গে এই চুক্তিতে অফসেট ক্লজের মাধ্যমে ভারতীয় কোম্পানিগুলো প্রযুক্তি ও উৎপাদনের সুযোগ পাবে, যা আত্মনির্ভরতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, গত এক দশকে প্রতিরক্ষা রপ্তানিও বহুগুণ বেড়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে রপ্তানি ছিল নগণ্য, আজ ভারত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম রপ্তানি করছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক লাভ নয়, ভারতের কৌশলগত প্রভাবও বাড়াচ্ছে।


