ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল বাহরাইন

বাহরাইনের বিদেশ মন্ত্রণালয় ইরানের (Bahrain)নতুন করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। বাহরাইনের ভূখণ্ডে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে…

bahrain-condemns-iran-missile-drone-attack-gulf-security

বাহরাইনের বিদেশ মন্ত্রণালয় ইরানের (Bahrain)নতুন করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। বাহরাইনের ভূখণ্ডে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং তেহরানের ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত আগ্রাসনের ধারাবাহিকতা।

বিদেশ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের এই আচরণ বাহরাইনের সার্বভৌমত্ব এবং দেশের নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি। এর আগেও ইরানের আগ্রাসনের নিন্দা করে বাহরাইন সতর্ক করেছিল। রাষ্ট্র সংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২৮১৭ (২০২৬) অনুসারে ইরান যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা ভঙ্গ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

   

আরও দেখুনঃ চুক্তি ভেঙে যুদ্ধের দামামা! ইরানে মার্কিন এয়ারস্ট্রাইক, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান

রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬-এর এই নতুন হামলা বাহরাইনের আগের সতর্কবার্তাকে সত্য প্রমাণ করেছে।বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মাত্র এগারো দিন আগে ১৭ জুন ইসলামাবাদে সই হওয়া ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’-এ ইরান স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করার এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তার একদিন পরই এই হামলা চালিয়ে ইরান তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

এতে আঞ্চলিক অবনতি রোধের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।বাহরাইনের বিদেশ মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, ইরানের এই বারবার আগ্রাসন কোনো যুক্তি দিয়ে সমর্থন করা যায় না। এটি পূর্বপরিকল্পিত এবং ইচ্ছাকৃত। তাই রাষ্ট্র সংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবিলম্বে জরুরি অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছে বাহরাইন।

রেজোলিউশন ২৮১৭-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন, চলতে থাকা আগ্রাসন বন্ধ এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।এই হামলা শুধু বাহরাইনের বিরুদ্ধে নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছে দেশটি। গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে বাহরাইন বলেছে, এক সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ মানে সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ।

একটি দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে পুরো জিসিসি-র নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। এই সংহতির ওপর ভিত্তি করে বাহরাইন জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতির প্রতি গর্ব প্রকাশ করেছে।বাহরাইন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় সব ধরনের বৈধ পদক্ষেপ নেবে।