তৃণমূলের প্রতীক জাল! ঋতব্রতর তৃণমূলের বিরুদ্ধে নিউটাউন থানায় অভিযোগ

কলকাতা: এবার জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল। (Trinamool Symbol)দলের পক্ষ থেকে নিউ টাউন থানার অফিসার ইন চার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো…

trinamool-symbol-fraud-complaint-new-town-police-ritabrata-banerjee

কলকাতা: এবার জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল। (Trinamool Symbol)দলের পক্ষ থেকে নিউ টাউন থানার অফিসার ইন চার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অরূপ রায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, বিপ্লব মিত্রসহ কয়েকজন ব্যক্তি ২২ জুন ২০২৬ তারিখে নিউ টাউনের নভোটেল কলকাতা হোটেল অ্যান্ড রেসিডেন্সে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও নাম জাল করে প্রতারণামূলক কার্যকলাপ করেছেন।

   

তৃণমূলের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও নাম ব্যবহার করে জাল লেটারহেড তৈরি করেন। এই জাল লেটারহেড ব্যবহার করে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে ২২ জুন ২০২৬ তারিখে একটি চিঠি জমা দেন এবং নিজেকে দলের ‘সাধারণ সম্পাদক’ বলে পরিচয় দেন। দলের অফিসিয়াল অবস্থান অনুসারে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদে নেই এবং তাঁকে এই ধরনের কোনো চিঠি পাঠানোর কোনো অধিকারও দেওয়া হয়নি।

আরও দেখুনঃ নিরামিষেই আসল পুষ্টি! মিথ ভাঙলেন ইসকন ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ

এটি স্পষ্টতই দলের নাম ও প্রতীক জালিয়াতি করে প্রতারণার ঘটনা বলে অভিযোগ করা হয়েছে।তৃণমূল কংগ্রেসের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “উপরোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আপনি এই চিঠিকে বিএনএসএস ২০২৩-এর ধারা ১৭৩ অনুসারে একটি তথ্য হিসেবে গ্রহণ করে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।” দলের আইনি শাখা থেকে পাঠানো এই চিঠিতে ঘটনাটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জালিয়াতি, প্রতারণা এবং মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে।২২ জুন নভোটেলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন কয়েকজন নেতা একটি বৈঠক বা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করা হয়। দলীয় সূত্র বলছে, এই ধরনের কার্যকলাপ দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভঙ্গের পাশাপাশি আইনি অপরাধও।

তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দলের হয়ে কোনো চিঠি বা বিবৃতি দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যক্তিদেরই আছে।এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে যখন তৃণমূল কংগ্রেস নিজস্ব সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার করার চেষ্টা করছে, তখন এমন অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসায় দলের নেতৃত্ব উদ্বিগ্ন।

দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এই ধরনের কাজ যাঁরা করছেন, তাঁরা দলের ক্ষতি করছেন এবং বিরোধীদের হাত শক্ত করছেন।পুলিশ এখনও এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো এফআইআর নথিভুক্ত করেছে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে বিএনএসএস-এর ধারা ১৭৩ অনুসারে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশকে তদন্ত শুরু করতে হয়। আইনজ্ঞরা বলছেন, জাল লেটারহেড তৈরি, প্রতীকের অপব্যবহার এবং মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো গুরুতর অপরাধ। এতে জালিয়াতি (Forgery), প্রতারণা (Cheating) এবং অন্যান্য ধারায় মামলা হতে পারে।