নিরামিষেই আসল পুষ্টি! মিথ ভাঙলেন ইসকন ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ

কলকাতা: বঙ্গের স্কুলে মিড ডে মিলের মেনুতে ডিমের পরিবর্তে (Radharaman Das)পনির ও সয়াবিন চালু করার সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্যজুড়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। এই আবহে মুখ খুলেছেন…

radharaman-das-midday-meal-nutrition

কলকাতা: বঙ্গের স্কুলে মিড ডে মিলের মেনুতে ডিমের পরিবর্তে (Radharaman Das)পনির ও সয়াবিন চালু করার সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্যজুড়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। এই আবহে মুখ খুলেছেন ইসকন কলকাতার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মুখপাত্র রাধারমণ দাস। তিনি প্রোটিনের বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরে বলেছেন, এই পরিবর্তন কোনোভাবেই শিশুদের পুষ্টির ক্ষতি করবে না, বরং উপকারই করবে।

রাধারমণ দাস জানান, “১০০ গ্রাম ডিমে ১৩ গ্রাম প্রোটিন থাকে। অন্যদিকে ১০০ গ্রাম সয়া চাঙ্কে ৫২ থেকে ৫৪ গ্রাম প্রোটিন। এটি অনেক বেশি।” তিনি আরও বলেন, “নিরামিষাশী পরিবারে প্রচলিত ডালে গড়ে ২৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে। পনিরে রয়েছে ২২ গ্রাম প্রোটিন।” তাঁর মতে, শুধুমাত্র ডিমকে প্রোটিনের একমাত্র উৎস হিসেবে দেখা ভুল।

   

আরও দেখুনঃ Mahua Moitra: ‘দিল্লি না গেলে জানতামই না রাজমা কি!’ মিড ডে মিল নিয়ে বিস্ফোরক মহুয়া

তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের তথ্য তুলে ধরে বলেন, “রাজস্থানে ৬১ শতাংশ মানুষ নিরামিষাশী। মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশেও নিরামিষাশী মানুষের সংখ্যা অনেক। অথচ এই রাজ্যগুলোতেই প্রোটিন গ্রহণের হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে বাংলা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাংস খাওয়ার প্রচলন থাকা সত্ত্বেও প্রোটিন গ্রহণ কম। এই ধরনের ভুল তথ্য ছড়ানো খুবই দুর্ভাগ্যজনক।”

বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে চলা বিতর্কের জবাবেও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন রাধারমণ দাস। তিনি বলেন, “অনেকের ধারণা, বাঙালি মানেই মাছ-ভাত। কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু কি বাঙালি ছিলেন না? তাঁর বৈষ্ণব ঐতিহ্যই তো আসল বাঙালিয়ানা। ইসকন সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য প্রভুপাদও বাঙালি ছিলেন। তিনি কৃষ্ণভাবনামৃতকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

রাধারমণ দাস আরও জানান, “বিশ্বজুড়ে আজ ৮ কোটি নিরামিষাশী মানুষ অত্যন্ত সুখী ও সন্তুষ্ট জীবনযাপন করছেন।” তাঁর বক্তব্য, নিরামিষ খাদ্য শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, এটি স্বাস্থ্যকর ও টেকসই জীবনযাপনের অংশ।এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, মিড ডে মিলে ডিম বন্ধ করে শিশুদের পুষ্টির ক্ষতি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইসকন ও বিজেপি সমর্থকরা রাধারমণ দাসের যুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, বাংলায় নিরামিষ খাদ্যের ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা উচিত নয়।পুষ্টিবিদদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কেউ বলছেন, ডিম সহজলভ্য ও সম্পূর্ণ প্রোটিনের উৎস। আবার কেউ সয়া, পনির, ডাল ও দুধের মিশ্রণকে ভালো বলছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের বয়স, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করে মেনু তৈরি করা উচিত।