কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্র ও রাজ্য। রবিবার কলকাতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা পর্যালোচনা বৈঠকে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র আদলে একটি ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (SIA)’ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, জম্মু ও কাশ্মীরের পর পশ্চিমবঙ্গই হবে দেশের প্রথম রাজ্য, যেখানে এনআইএ-র ধাঁচে বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা গঠিত হবে।
সন্ত্রাস ও জাল নোট মামলায় বিশেষ নজর
প্রস্তাবিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (SIA) সন্ত্রাসবাদ, বেআইনি কার্যকলাপ (UAPA) এবং উচ্চমূল্যের জাল নোট সংক্রান্ত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে নথিভুক্ত সমস্ত সন্ত্রাসবাদ ও ইউএপিএ-সংক্রান্ত মামলার পর্যালোচনা করবে এনআইএ।
অ্যান্টি-নারকোটিক্স ও অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াড গঠনের উদ্যোগ
বৈঠকে আরও আলোচনা হয়েছে,
• রাজ্যে অ্যান্টি-নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স (ANTF) গঠন।
• অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS) তৈরির উদ্যোগ।
• মাদক পাচার রুখতে নিয়মিত NCORD বৈঠক।
• সাইবার নিরাপত্তা পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা।
বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজর
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখলদারি সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি অনুপ্রবেশ রোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জঙ্গলমহলে নতুন পরিকল্পনা
বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে জানানো হয়েছে, একসময় মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় থাকা নিরাপত্তা শিবিরগুলির এক-তৃতীয়াংশকে জনসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।
এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা সহজেই পেতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কলকাতার জন্য বন্যা মোকাবিলার মাস্টারপ্ল্যান
বৈঠকে কলকাতার জল জমার সমস্যা ও বন্যা মোকাবিলার জন্য একটি সমন্বিত ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিষেবা উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মহিলা নিরাপত্তায় বিশেষ জোর
গ্রামীণ এলাকায় মহিলা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘উইমেন আউটরিচ প্রোগ্রাম’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন অমিত শাহ।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি আধিকারিকদের নিয়মিত গ্রামে গিয়ে মহিলাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং তাঁদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পুলিশে নিয়োগ বাড়ানোর নির্দেশ
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে
• নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুলিশে শূন্যপদ পূরণ।
• কনস্টেবল নিয়োগে অগ্রাধিকার।
• পুলিশ প্রশিক্ষণের পরিকাঠামো বাড়ানো।
• ধীরে ধীরে সিভিক ভলান্টিয়ারের উপর নির্ভরতা কমানো।
• জাতীয় গড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুলিশ বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে পুলিশ জেলার সংখ্যা পুনর্বিন্যাস।
অমিত শাহ কী বললেন?
পরে নিউ টাউনে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, রাজ্য সরকার আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
তিনি জানান, এই বিষয়গুলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনে এসব বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।





