কলকাতা: আগামী দু’বছর কোনও নতুন বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) দেবে না পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) সরকার। একই সঙ্গে বর্তমানে চলা বেসরকারি কলেজগুলির পরিকাঠামো, শিক্ষার মান, ফি-র কাঠামো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড খতিয়ে দেখতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ পরিদর্শন চালানো হবে। নির্ধারিত মান পূরণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এনওসি নবীকরণও নাও হতে পারে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
বিকাশ ভবনে উচ্চশিক্ষা নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, শিক্ষা যেন কোনওভাবেই বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজ্যের লক্ষ্য সরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা, যাতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করতে না হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত পরিকাঠামো, শিক্ষার মান এবং যুক্তিসংগত ফি বজায় রাখতে পারলে তবেই তাদের এনওসি নবীকরণ করা হবে।
কোন কোন কলেজে হবে পরিদর্শন?
উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ করে যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান:
• আইন (Law)
• ইঞ্জিনিয়ারিং
• শিক্ষক প্রশিক্ষণ (B.Ed)
সহ বিভিন্ন পেশাগত কোর্স পরিচালনা করছে, সেগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
বৈঠকে অভিযোগ ওঠে, বহু প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছাড়াই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উচ্চ ফি আদায় করছে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই রাজ্যজুড়ে এই পরিদর্শন হবে।
দু’বছর মিলবে না নতুন এনওসি
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, যিনি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, জানান যে আগামী দু’বছর নতুন কোনও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এনওসি দেওয়া হবে না।
তাঁর মতে, সরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই নীতি গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।
কী কী খতিয়ে দেখা হবে?
আগামী দু’বছরে সরকারি দল বিভিন্ন বেসরকারি কলেজে গিয়ে পরীক্ষা করবে:
• পর্যাপ্ত পরিকাঠামো রয়েছে কি না
• শিক্ষার মান নির্ধারিত মানদণ্ডে রয়েছে কি না
• ফি কাঠামো যুক্তিসংগত কি না
• শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কি না
যেসব প্রতিষ্ঠান এই মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হবে, তাদের এনওসি নবীকরণ নাও হতে পারে বলে উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
বিএড কলেজগুলির উপরও বিশেষ নজর
সোমবারই বাবাসাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি-র অধিভুক্ত স্ব-অর্থপোষিত বিএড কলেজগুলির উপর নজরদারি চালানোর জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে উচ্চশিক্ষা দফতর।
এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছাড়াই উচ্চ ফি নিচ্ছে বা মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারছে না, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
PM-USHA প্রকল্প নিয়েও আলোচনা
বৈঠকে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কেন্দ্রীয় PM-USHA প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির তহবিল ব্যবহারের অগ্রগতি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতে পাঠদানের সময় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সুকান্ত মজুমদার জানান, ব্যবহার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি (Utilisation Certificate) জমা পড়ার পর রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি খুব শিগগিরই PM-USHA প্রকল্পের অধীনে কেন্দ্রীয় অনুদান পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বয়ে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও বৈঠকে জোর দেওয়া হয়েছে।





