বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব থেকে পঞ্চায়েত প্রধান-পৌরসভার চেয়ারম্যানদের সরালেন শুভেন্দু

কলকাতা: ফের বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ( Registration Reform)তিনি ঘোষণা করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় বড় সংস্কার আনা হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এবং পৌরসভার…

wb-birth-death-registration-reform

কলকাতা: ফের বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ( Registration Reform)তিনি ঘোষণা করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় বড় সংস্কার আনা হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এবং পৌরসভার চেয়ারম্যান বা এক্সিকিউটিভ অফিসারদের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হল জনপ্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিপূর্ণ এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করে তোলা।

Advertisements

এই উদ্যোগের ফলে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সুগঠিত, নির্ভুল ও দ্রুত হবে।নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি রাজস্ব জেলার জেলাশাসক ও কালেক্টরকে ওই জেলার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে। জেলাশাসকের নেতৃত্বে পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করা হবে, যাতে কোনো অনিয়মের সুযোগ না থাকে।

আরও দেখুনঃ বাংলার আমূল হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই কারখানা! দাবি মোদী সরকারের

এছাড়া, ব্লক মেডিকেল অফিসার অফ হেলথ (বিএমওএইচ), গ্রামীণ হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট এবং মেডিকেল কলেজের প্রধানরা তাদের নিজ নিজ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধক হিসেবে কাজ করবেন। ফলে হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশু বা মৃত্যুর ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধিত হবে।সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে আনার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও পৌরসভার জন্য এখন থেকে নির্দিষ্ট সরকারি অফিসার নিয়োগ করা হবে, যাঁরা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের কাজ দেখভাল করবেন। এতে প্রশাসনিক কাজ আরও সুশৃঙ্খল ও পেশাদার হয়ে উঠবে। আগে পঞ্চায়েত প্রধান বা পৌরপ্রধানদের উপর এই দায়িত্ব থাকায় অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাব, বিলম্ব এবং অভিযোগ উঠত। নতুন ব্যবস্থায় সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “আমাদের সরকার সাধারণ মানুষের সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জন্ম-মৃত্যু সার্টিফিকেট পাওয়া একটি মৌলিক প্রয়োজন। এটি শিক্ষা, চাকরি, ভোটার কার্ড, আধার কার্ডসহ নানা কাজে অপরিহার্য। তাই এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করতে আমরা এই সংস্কার এনেছি।” তিনি আরও জানান, এই ব্যবস্থা চালু হলে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হবে না।

আরও দেখুনঃ লেকটাউনে পুলিশের জালে দুই সন্দেহভাজন, উদ্ধার চার কিলোগ্রামের সোনার বিস্কুট

অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও সেবা আরও সুগম হবে।এই সংস্কারের ফলে রাজ্যজুড়ে জন্ম-মৃত্যুর সঠিক তথ্য সংরক্ষণ সম্ভব হবে। সরকারি পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য কর্মসূচি এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তৈরিতে এই তথ্য অত্যন্ত কাজে লাগবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ যাতে সহজে সার্টিফিকেট পান, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। অনেক সময় দেখা যায়, মৃত্যু নিবন্ধন না হওয়ায় পরিবারগুলো নানা সমস্যায় পড়েন। নতুন ব্যবস্থায় এই জটিলতা কমবে।