
কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ বিধানসভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন। (Suvendu Adhikari)তিনি বলেছেন, “৪ মে-র পর যদি একজন তৃণমূল কর্মীকেও ঘরছাড়া হতে হয়, তাহলে তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুলিশ কর্তারা তাদের দায়িত্ব নিয়ে ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু যাঁর নাম ২০২১-এর পরবর্তী নির্বাচনী হিংসার এফআইআর-এ রয়েছে, তাঁকে জেলে যেতেই হবে। কেউ তাঁকে বাঁচাতে পারবে না।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই দ্বিমুখী ও কঠোর অবস্থান রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে ঘরছাড়া হয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ছে। অন্যদিকে যাঁরা অভিযোগের মুখোমুখি, তাঁদের পরিবারে উদ্বেগ বেড়েছে।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চাই না। কিন্তু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।
আরও দেখুনঃ শিলিগুড়ি-এনজেপি ডবল লাইন প্রকল্পে বড় অনুমোদন! শুভেন্দুকে চিঠি রেলমন্ত্রীর
যাঁরা নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার করেছেন, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে যাঁরা নিরাপত্তার অভাবে ঘর ছেড়েছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব।” তাঁর এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নতুন সরকার আইনের পথে চলবে, কিন্তু কোনো অপরাধীকে রক্ষা করবে না।২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে যে ব্যাপক হিংসা হয়েছিল, তার অনেক মামলা এখনও চলছে। শত শত মানুষ ঘরছাড়া হয়েছিলেন।
অনেকে জীবিকা হারিয়েছেন, অনেক পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। এখন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেইসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আশা দেখছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। যাঁরা নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করছেন, তাঁরা বলছেন, “আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। কিন্তু পুরনো মামলায় হয়রানি করা হলে সমস্যা হবে।” কয়েকজন তৃণমূল নেতা জানিয়েছেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সুরাহার চেষ্টা করবেন।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট ঘোষণা “কেউ বাঁচাতে পারবে না” এই বার্তা তাঁদের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে দেখা দিয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অবস্থান নতুন সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “২০২১-এর হিংসার ঘটনাগুলো রাজ্যের ইতিহাসে কলঙ্ক হয়ে আছে। নতুন সরকার যদি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিতে পারে এবং নিরীহদের ফিরিয়ে আনতে পারে, তাহলে মানুষের মনে আস্থা ফিরবে।”

