নদিয়া: বাড়িতে পুলিশি তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩ কেজি সোনার গয়না! আর এই ঘটনার পর থেকেই স্বামী-সহ কার্যত বেপাত্তা নদিয়ার তৃণমূল নেত্রী তথা জেলা পরিষদ সদস্য টিনা ভৌমিক সাহা। পুলিশি অভিযানের আগাম খবর পেয়েই কি তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছেন? এই প্রশ্নকে ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কীভাবে উদ্ধার হল বিপুল সোনা?
সোমবার রাতে সদ্য গ্রেফতার হওয়া তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে সঙ্গে নিয়ে টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালায় তদন্তকারী দল। রাতভর সেই অভিযানের পরই উদ্ধার হয় ওই বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকারও বেশি। সব্যসাচীর সঙ্গে টিনার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পরিচিতি ছিল। সেই সূত্রেই কি তোলাবাজি বা বেআইনি আর্থিক লেনদেনের টাকায় কেনা সোনা টিনার কাছে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল? তদন্তকারীদের মূল নজর এখন সেদিকেই। তবে সব্যসাচী দত্ত এই সোনার মালিকানা অস্বীকার করেছেন এবং সিজার লিস্টেও সই করেননি বলে খবর।
কোথায় গেলেন টিনা ও তাঁর স্বামী?
তল্লাশি অভিযানের সময় বাড়িতে ছিলেন না টিনা ভৌমিক বা তাঁর স্বামী। পরিবারের দাবি, তাঁরা দু’জনেই একসঙ্গে গাড়িতে করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। টিনার বৃদ্ধা শাশুড়ি জানিয়েছেন, ছেলে ও বউমা বেরনোর পর থেকে তাঁদের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা যায়নি। প্রতিবেশীরাও জানিয়েছেন, নিজেদের গাড়িতে করেই ওই দম্পতিকে এলাকা ছাড়তে দেখা যায়। এরপর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ। ফলে সম্ভাব্য গ্রেফতারি এড়াতেই তাঁরা আত্মগোপন করেছেন বলে জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ
সোনা উদ্ধারের পর বুধবার টিনা ভৌমিক ও তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে পুলিশ। তাঁরা আজ হাজিরা দেন কি না, সেদিকেই কড়া নজর রয়েছে তদন্তকারী আধিকারিকদের।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গত কয়েক বছরে এলাকায় টিনা ভৌমিকের রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিপত্তি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েই এই বিপুল সম্পত্তির পাহাড় তৈরি হয়েছিল কি না, তা এখন তদন্ত সাপেক্ষ। আপাতত পলাতক নেত্রী ও তাঁর স্বামী প্রকাশ্যে এলে এই সোনা-রহস্যের জট আরও দ্রুত খুলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



