রেশন দুর্নীতি মামলা নিয়ে শনিবার সকাল থেকেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। একদিকে যখন হাবড়া-সহ একাধিক জেলায় ইডি-র (ED) ম্যারাথন তল্লাশি চলছে, ঠিক তখনই ভবানীপুরে প্রচারের ময়দান থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রেশন দুর্নীতির লভ্যাংশের সিংহভাগই পৌঁছেছে কালীঘাটে।
বিস্ফোরক শুভেন্দু
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “হাবরার প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ১০ হাজার কোটি টাকার রেশন দুর্নীতি করেছেন। সেই দুর্নীতির অন্তত ৭৫ শতাংশ টাকা মমতার বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। জেলবন্দি জ্যোতিপ্রিয়কে (বালু) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ‘ক্লিনচিট’ দিলেও শুভেন্দু ফের দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে তাঁকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন।
ইডির ‘অপারেশন’ ও দুর্নীতির মোডাস অপারেন্ডি Suvendu Adhikari targets Mamata
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল থেকে কলকাতা, বর্ধমান এবং হাবড়ার মোট ৯টি ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। বসিরহাট থানায় হওয়া একটি এফআইআর-এর সূত্র ধরে শুরু হওয়া এই তদন্তে রেশনের গম পাচারের এক চাঞ্চল্যকর ছক সামনে এসেছে। অভিযোগ, এফসিআই (FCI) এবং রাজ্য সরকারের মার্ক করা বস্তা থেকে গম বের করে অন্য বস্তায় ভরা হতো। এরপর সেই গম খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি বা বাংলাদেশে রফতানি করা হতো। এই পুরো চেইনটি সরবরাহকারী থেকে দালালরা মিলে নিয়ন্ত্রণ করত।
মমতার ‘ক্লিনচিট’ বনাম তদন্তের গতি
কদিন আগেই হাবড়ার মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, সিপিএম-এর ভুয়া রেশন কার্ডের কারচুপি ধরে ফেলায় বালুকে ‘ষড়যন্ত্র’ করে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বালুকে ‘নির্দোষ’ বলে সার্টিফিকেট দিলেও ইডি-র সাম্প্রতিক অভিযান ও শুভেন্দুর আক্রমণ বুঝিয়ে দিচ্ছে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রেশন কাণ্ডই হতে চলেছে শাসকদলের সবথেকে বড় কাঁটা।




















