ছুটির সকালটা শুরু হয়েছিল একেবারেই শান্তভাবে। আকাশ ছিল আংশিক মেঘলা, (Heavy Rain) রোদ আর মেঘের লুকোচুরি খেলা চলছিল কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায়। অনেকেই ভেবেছিলেন দিনটি হয়তো তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক কাটবে। কিন্তু বেলা বাড়তেই আবহাওয়ার রূপ বদলাতে শুরু করে।
দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়।(Heavy Rain) মুহূর্তের মধ্যে কলকাতার বিভিন্ন অংশে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। প্রথমে হালকা ফোঁটা থেকে শুরু হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা প্রবল বর্ষণে রূপ নেয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, বাজার এলাকা এবং জনবহুল জায়গাগুলোতে জল জমতে শুরু করে। অফিস ফেরত বা বাইরে থাকা মানুষজনকে দ্রুত আশ্রয় খুঁজতে দেখা যায়।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী,(Heavy Rain) আপাতত আগামী এক থেকে দুই ঘণ্টা কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনার বেশ কিছু অংশ এবং সংলগ্ন জেলার কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় থাকা, গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বা জলমগ্ন রাস্তায় চলাচল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের(Heavy Rain) ফলে শহরের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়ে। যান চলাচল অনেক জায়গায় ধীর হয়ে যায়। বাস ও ট্রাম পরিষেবায় দেরি দেখা যায়। মেট্রো পরিষেবা তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকলেও স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের ভিড় বাড়ে। অনেকেই বৃষ্টির কারণে রাস্তায় আটকে পড়েন এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আশপাশের দোকান বা ভবনে ঢুকে পড়েন।
বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে দমকা হাওয়ার প্রভাবে কিছু জায়গায় ছোটখাটো গাছের ডাল ভেঙে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগেও কিছু এলাকায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। তবে প্রশাসনের তরফে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বৃষ্টির কারণে শহরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। কয়েকদিনের গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার পর এই বৃষ্টি অনেকের কাছে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তবে একই সঙ্গে জল জমা ও যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কম নয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধরনের আকস্মিক ঝড়বৃষ্টি সাধারণত মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে হয়ে থাকে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ বা স্থানীয় আবহাওয়ার অস্থিরতা এই পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করতে পারে। আগামী কয়েক ঘণ্টা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা জরুরি।



