বীরভূম: বয়স মাত্র পাঁচ। জাতীয় মঞ্চে পদক জিতেই তার প্রথম প্রশ্ন, “আমি কি থাইল্যান্ড যেতে পারব ম্যাডাম?” এই একটি প্রশ্নই যেন তুলে ধরেছে বীরভূমের একঝাঁক যোগাসন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। পাঁচ বছরের শিশু থেকে ৬৪ বছরের গৃহবধূ, সকলের চোখেই এখন একটাই লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হয়ে সাফল্য অর্জন।
সম্প্রতি দীঘায় অনুষ্ঠিত জাতীয় যোগাসন প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়ার পর শান্তিনিকেতন সংলগ্ন এলাকার একাধিক প্রতিযোগী এবার থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়া কাপের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছেন।
পাঁচ বছরের দৃশানের স্বপ্ন এখন থাইল্যান্ড
জাতীয় যোগাসন প্রতিযোগিতায় বিশেষভাবে সক্ষম বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে মাত্র পাঁচ বছরের দৃশান মাহাতো। পুরস্কার গ্রহণের পরই সে তার শিক্ষিকা পারমিতা দত্তরায়কে প্রশ্ন করে, “আমি কি থাইল্যান্ড যেতে পারব?”
দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে বিশেষভাবে সক্ষম এই শিশুকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন পারমিতা দত্তরায়। তাঁর কথায়, এই সাফল্যের পর দৃশানের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে।
বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়াদেরও সাফল্য
বিশেষভাবে সক্ষম বিভাগের আর এক প্রতিযোগী সম্যক ঘোষ-ও এশিয়া কাপে অংশ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকেই নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেছে।
অন্যদিকে সাধারণ বিভাগে ১২ বছরের বিহান মুখোপাধ্যায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
৫ থেকে ৬৪- বয়স কোনও বাধা নয়
জাতীয় প্রতিযোগিতায় শুধু শিশুরাই নয়, নজর কেড়েছেন প্রবীণরাও।
৫৫-৬০ বছর বিভাগে
• সবিতা মণ্ডল – দ্বিতীয় স্থান
• মধুমিতা সরকার – তৃতীয় স্থান
৬০-৬৫ বছর বিভাগে
• সুমিতা চ্যাটার্জি – তৃতীয় স্থান
তাঁরাও এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
‘তোমরা ক্ষুদ্র, কিন্তু তুচ্ছ নও’
যোগ প্রশিক্ষক পারমিতা দত্তরায় জানিয়েছেন, প্রতিদিন তিনি তাঁর ছাত্রছাত্রীদের একটি কথাই বলেন, “তোমরা ক্ষুদ্র, কিন্তু তুচ্ছ নও।”
তাঁর মতে, ভারতীয় যোগ শুধুমাত্র শরীরচর্চা নয়, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। বিশেষ করে বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যোগাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, তাঁর কাছে সব বয়সের মানুষ যোগাসন শেখেন। শিশুদের মধ্য থেকে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক মানের যোগাসন প্রতিযোগী তৈরি করাই এখন তাঁর লক্ষ্য।
শান্তিনিকেতন থেকেই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন
বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতন সংলগ্ন ছোট্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই এখন চলছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের পতাকা উড়ানোর প্রস্তুতি। জাতীয় পর্যায়ের সাফল্য তাদের স্বপ্নকে আরও বড় করেছে।
পাঁচ বছরের শিশুর চোখে যেমন থাইল্যান্ড জয়ের স্বপ্ন, তেমনি ষাটোর্ধ্ব গৃহবধূরাও প্রমাণ করে দিয়েছেন স্বপ্ন দেখার কোনও বয়স হয় না। বীরভূমের এই যোগীরা এখন একটাই লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় যোগাসনের সাফল্যের নতুন ইতিহাস লেখা।





