প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় সিপিএম অফিস ভাঙচুর, কর্মীরাই চালাল তাণ্ডব

West Bengal Election cpim-office-vandalism-kaliganj-candidate-row-nadia

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: আসন্ন রাজ্য  বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election) আগে সিপিএমের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল।  নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী ঘোষণার পরই ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

গতকাল, সোমবার সিপিএম জেলা কমিটি কালীগঞ্জ থেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে সাবিনা ইয়াসমিনের নাম।  তিনি সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে সিপিএমে যোগ দিয়েছেন। তাঁর মেয়ে তামান্না কালীগঞ্জের উপনির্বাচনে তৃণমূলের ছড়া বোমার আঘাতে নিহত হয়েছিলেন। দলের এই সিদ্ধান্ত অনেক কর্মী মেনে নিতে পারেননি।

   

আজ সকালে ঘটনার সূত্রপাত

আজ সকালে কালীগঞ্জের সিপিএম পার্টি অফিসে হঠাৎই উত্তেজিত কর্মীরা জড়ো হন। তাঁরা দাবি করেন, প্রার্থী পরিবর্তন করতে হবে। দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা না হওয়ায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে কর্মীরাই অফিসের চেয়ার-টেবিল, ফাইলপত্র, জানালার কাচ ভাঙচুর শুরু করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন কর্মী চিৎকার করে প্রার্থী বদলের দাবি জানাতে থাকেন।

কেন এই ক্ষোভ?

স্থানীয় সূত্রের খবর, সাবিনা ইয়াসমিনকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তে অনেক পুরনো কর্মী ক্ষুব্ধ। তাঁরা মনে করছেন, দলে নতুন যোগ দেওয়া ব্যক্তিকে এত গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী করা ঠিক হয়নি। কেউ কেউ বলছেন, “যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য লড়াই করেছেন, তাঁদের উপেক্ষা করে বাইরের লোককে প্রার্থী করা মেনে নেওয়া যায় না।”

ঘটনার খবর পেয়ে সিপিএমের জেলা নেতৃত্ব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এখনও পর্যন্ত দলের তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

কালীগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত

কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। গত উপনির্বাচনে তামান্না হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এখনও এলাকায় তীব্র আলোচনায় রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সিপিএমের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও জটিলতা তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “দলের ভিতরে এমন ঝামেলা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়। ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।”

এই মুহূর্তে কালীগঞ্জের সিপিএম অফিসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলার রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ছবি

নদিয়া জেলায় এটাই প্রথম নয়। বিভিন্ন দলে প্রার্থী ঘোষণার পর অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসছে। সিপিএমের এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।