‘যে দেশে উর্দু চলে সেখানে যেতে পারেন!’ ফিরহাদকে যোগী হুঙ্কার

কলকাতা: পূর্ব মেদিনীপুরের নির্বাচনী ময়দানে যোগী ঝড়। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)বাংলার বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে এসে কলকাতার মেয়র তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের একটি…

yogi-adityanath-firhad-hakim-urdu-controversy-bengal-election

কলকাতা: পূর্ব মেদিনীপুরের নির্বাচনী ময়দানে যোগী ঝড়। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)বাংলার বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে এসে কলকাতার মেয়র তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের একটি পুরনো মন্তব্যকে তুলে ধরে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের এক জনসভায় যোগী বলেন, “কলকাতার মেয়র খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলছেন, বাংলার অর্ধেক জনসংখ্যা একদিন উর্দু বলবে। অর্থাৎ তাঁরা বাংলা ভাষাকে মুছে ফেলতে চান।

বাঙালি অস্তিত্বকে লুপ্ত করতে চান।”যোগী আদিত্যনাথ আরও বলেন, “এই লোকদের বলুন, যদি উর্দু জোর করে চালাতে চান, তাহলে সেই জায়গায় চলে যান যেখানে আসলে উর্দু বলা হয়। বাংলার মাটিতে বাংলা ভাষার অপমান সহ্য করা হবে না।” তাঁর এই হুঙ্কারে জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার বিজেপি কর্মী ও সমর্থক ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন। পুরো এলাকা যেন রাজনৈতিক উত্তেজনায় ফেটে পড়ে।

   

ফিরহাদ এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “ইনশাআল্লাহ, একদিন বাংলায় অর্ধেক মানুষ উর্দু বলবে।” সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে বারবার ভাইরাল হয়েছে। বিজেপি এবং বাংলা ভাষাপ্রেমী সংগঠনগুলো এটিকে বাঙালি সংস্কৃতির উপর আঘাত হিসেবে দেখছে। যোগী আদিত্যনাথ এই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি করে বাংলার নিজস্ব পরিচয়কে বিপন্ন করছে। তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলায় বাংলা ভাষার পরিবর্তে অন্য ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে ধ্বংস করবে।

পূর্ব মেদিনীপুরের এই জনসভায় যোগী আরও বলেন, বাংলা শুধু একটি ভাষা নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিদ্যাসাগরের ভাষাকে কোনোভাবেই অপমান করা যাবে না। তিনি বিজেপির শাসনে উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নের উদাহরণ দিয়ে বলেন, “যেখানে আইনের শাসন আছে, সেখানে ভাষা ও সংস্কৃতিরও রক্ষা হয়। বাংলায় যদি বিজেপি সরকার আসে, তাহলে বাংলা ভাষাকে তার যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হবে। কোনো তোষণ চলবে না।”

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যোগীর বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উস্কানি’ বলে নিন্দা করা হয়েছে। ফিরহাদ হাকিম নিজে এখনও সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেননি, তবে দলের অন্য নেতারা বলছেন, যোগী আদিত্যনাথ বাংলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন। তাঁরা দাবি করেন, ফিরহাদের মন্তব্যটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভাষাগত অধিকার নিয়ে ছিল, কোনোভাবেই বাংলা ভাষার বিরোধিতা নয়।