ডানকুনি পুরসভায় ভাঙল তৃণমূল বোর্ড, চেয়ারম্যান-সহ চারজনের ইস্তফায় চাঞ্চল্য

হুগলির ডানকুনি পুরসভায় চেয়ারম্যান হাসিনা শবনম, ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা-সহ চার কাউন্সিলরের ইস্তফায় ভেঙে পড়ল তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড। বেরোনোর সময় ওঠে ‘চোর, চোর’ স্লোগান।

dankuni-municipality-tmc-board-collapse-resignations

কলকাতা: হুগলির ডানকুনি (Dankuni) পুরসভায় বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটল। চেয়ারম্যান হাসিনা শাবনম এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা-সহ মোট চার জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরবোর্ড কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাঁদের ইস্তফার পর পুরসভা চত্বরের বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেরিয়ে আসার সময় তাঁদের উদ্দেশে “চোর, চোর” স্লোগানও দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে ঘিরে ডানকুনির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। তবে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত পুরসভার পক্ষ থেকে বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

বিক্ষোভে উত্তপ্ত ডানকুনি পুরসভা

বুধবার একাধিক অভিযোগ নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে ডেপুটেশন দিতে ডানকুনি পুরসভায় আসেন বামফ্রন্টের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি ছিল, পুরসভার বিভিন্ন পরিষেবা ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

এরই মধ্যে পুরসভার সামনে বিক্ষোভ শুরু করে বিজেপি। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন।

বিক্ষোভ চলাকালীন বিজেপি কর্মীরা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিও তোলেন।

চার ঘণ্টার বেশি ঘেরাওয়ের অভিযোগ

বিজেপির আন্দোলনের জেরে পুরসভার চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানকে চার ঘণ্টারও বেশি সময় পুরসভার ভিতরে ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভা চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশও মোতায়েন করা হয়।

চেয়ারম্যান-সহ চার কাউন্সিলরের ইস্তফা

পরিস্থিতির মধ্যেই চেয়ারম্যান হাসিনা শাবনম, ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা এবং আরও দুই কাউন্সিলর পদত্যাগ করেন। এর ফলে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছে।

পুরসভা থেকে বেরিয়ে আসার সময় উপস্থিত একাংশ বিক্ষোভকারী তাঁদের উদ্দেশে “চোর, চোর” স্লোগান দেন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু

ঘটনার পর থেকেই ডানকুনির রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নাগরিক পরিষেবার অবনতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার জেরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ঘিরে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদত্যাগের কারণ সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।

কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ?

চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর ডানকুনি পুরসভার প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন, বোর্ড পুনর্গঠন অথবা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে এগোবে।

এদিকে নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা এড়ানো এখন প্রশাসনের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।