কলকাতা: রানিগঞ্জে এক তৃণমূল যুবনেতার গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাজনৈতিক উত্তেজনা (Soumitra Bandyopadhyay)তুঙ্গে ওঠে। পুলিশের ভ্যানে তোলার সময় ওই নেতাকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হিংসা ও হামলার একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত রানিগঞ্জ থানার পুলিশ একটি পুরনো মামলার ভিত্তিতে সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার তাঁকে থানায় নিয়ে আসার সময় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা থানার সামনে জড়ো হয়ে অভিনব প্রতিবাদে সামিল হন। প্রতিবাদ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয় ‘এগ থেরাপি’। সেই সময় পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে একের পর এক কাঁচা ডিম ছোড়া হয়। বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের ভ্যানে ওঠা পর্যন্ত ডিমবৃষ্টির মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/india/yogi-adityanath-warning-to-land-mafia-bulldozer-action/
বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, দলের নেতা রবি কেশরীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত বিজেপির একটি কর্মসূচির সময় তৃণমূল সমর্থকদের একটি দল হামলা চালায়। সেই ঘটনায় একাধিক বিজেপি কর্মী আহত হন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, হামলার সময় প্রাণনাশের চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে দাবি বিজেপির। ওই মামলায় সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজেপি নেতা রবি কেশরী আরও দাবি করেছেন, অতীতেও একাধিক রাজনৈতিক সংঘর্ষে সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠে এসেছে। নির্বাচনের সময় রানিগঞ্জ গার্লস কলেজে ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনাতেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। দলের দাবি, তাদের কাছে এমন কিছু ভিডিও ফুটেজ রয়েছে যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে।
রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগের পাশাপাশি সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। দলের অভিযোগ, অবৈধ বালি ও কয়লা ব্যবসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টাকার বিনিময়ে ভর্তি করানো এবং কলেজ ক্যাম্পাসে অরাজক পরিবেশ তৈরির মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁদের যোগ রয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, শুধুমাত্র রাজনৈতিক হিংসা নয়, এই সমস্ত অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে গেরুয়া শিবির।
তবে সমস্ত অভিযোগই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, তিনি আইন এবং বিচারব্যবস্থার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখেন। ছাত্র রাজনীতির সময় কিছু বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে স্বীকার করলেও বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা বা অন্য কোনও বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন এই তৃণমূল নেতা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রানিগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি ও তৃণমূলের পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং এই মামলায় নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



