‘চোখ খুলে দেখ বুলডোজার এসে গিয়েছে!’ জমি মাফিয়াদের হুঁশিয়ারি যোগীর

লখনউ: এ যেন সেই বিখ্যাত ছবি শোলের সংলাপের মত। (Yogi Adityanath)ছবির ভিলেন গব্বর সিং বলতেন বাচ্চারা কাঁদলেই মায়েরা ভয় দেখায় গব্বর এসে যাবে। ঠিক তেমনি…

লখনউ: এ যেন সেই বিখ্যাত ছবি শোলের সংলাপের মত। (Yogi Adityanath)ছবির ভিলেন গব্বর সিং বলতেন বাচ্চারা কাঁদলেই মায়েরা ভয় দেখায় গব্বর এসে যাবে। ঠিক তেমনি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জমি মাফিয়াদের দিলেন হুঁশিয়ারি। একটি জনসভায় দাঁড়িয়ে বললেন ‘জমি মাফিয়ারা চোখ খুলে দেখ বুলডোজার এসে গিয়েছে।’

প্রশ্নটা ছিল জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, “এটা আমার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়।” সেই হাসির পেছনে লুকিয়ে ছিল এক দৃঢ় সংকল্পের গল্প। উত্তরপ্রদেশে জমি দখলের যে অন্ধকার জাল বিস্তারিত হয়েছিল বছরের পর বছর ধরে, সেটা ছিন্ন করার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠল একটি ঘটনা।এয়ারপোর্টের কাছাকাছি বিশাল এলাকা। শত শত একর জমি।

   

আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/top-stories/abhishek-banerjee-appears-before-cid/

সাধারণ মানুষের চোখে এটা ছিল শুধুই খোলা মাঠ আর স্বপ্নের জমি। কিন্তু কয়েকজন প্রভাবশালী জমি মাফিয়ার কাছে এটা ছিল সোনার খনি। তারা জাল দলিল তৈরি করে, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে হাত মিলিয়ে জমিগুলো নিজেদের নামে রেকর্ড করে ফেললো। প্লটিং শুরু হয়ে গেল। রাতারাতি বোর্ড টাঙানো হল ‘আবাসন প্রকল্প’, ‘লাক্সারি প্লট’।

সাধারণ মানুষ যারা সেখানে চাষ করতেন বা ছোট ছোট স্বপ্ন দেখতেন, তারা হয়ে গেলেন উদ্বাস্তু। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। মাফিয়াদের নাম শুনলেই থেমে যেত সবকিছু।কিন্তু একদিন সব বদলে গেল। ভোরের আলো ফোটার আগেই ভারী যানবাহনের শব্দে কেঁপে উঠলো এলাকাটা। বুলডোজার এসে গিয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ স্পষ্ট অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে।

মাফিয়াদের লোকজন প্রথমে হুমকি দিল, তারপর অনুরোধ, শেষে ভয় দেখাল। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হলো না। বুলডোজার নির্মমভাবে সমতল করে দিল সেই সব অবৈধ সীমানা প্রাচীর, প্লটিং বোর্ড আর অস্থায়ী অফিস। শত শত একর জমি ফিরে এলো সরকারি খাতায়। সাধারণ মানুষের মুখে ফুটে উঠলো হালকা হাসি। অনেকে বলতে শুরু করলেন, “অবশেষে ন্যায় ফিরেছে।”

কিন্তু যোগী সরকারের অভিযান এখানেই থামেনি। যে সরকারি কর্মকর্তা মাফিয়াদের হয়ে জমি রেকর্ড করতে সাহায্য করেছিলেন, তাঁকেও ছাড় দেওয়া হয়নি। তদন্ত শুরু হলো। প্রমাণ সংগ্রহ করা হলো। অভিযোগপত্র দাখিল করা হলো। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যিনি জনগণের টাকায় বেতন খান, তিনি যদি জনগণের জমি লুটের সহযোগী হন, তাহলে তাঁর শাস্তি হতেই হবে এটাই ছিল বার্তা।

এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একটা স্পষ্ট সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছে। এখন আর শুধু মাফিয়াদেরই নয়, তাদের সহযোগীদেরও খুঁজে বের করা হচ্ছে।যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশে জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে এই লড়াই নতুন করে শুরু হয়েছে। রাজ্যজুড়ে একের পর এক অভিযান চলছে। লখনউ, গাজিয়াবাদ, নয়ডা, মিরাট সব জায়গাতেই অবৈধ দখল উচ্ছেদের খবর আসছে।

কখনো বুলডোজার, কখনো আইনি পদক্ষেপ, আবার কখনো সরাসরি অভিযান। মাফিয়ারা যেভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করত, সেই সব পুরনো নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ছে। অনেকেই এখন জেলের ভাত খাচ্ছেন। যাদের নামে শুনলে আগে থরথর করে কাঁপতো এলাকা, তারাই এখন আদালতে দৌড়াদৌড়ি করছেন।