
আর্থিক প্রতারণা এবং তোলাবাজির অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরেই অধরা ছিলেন সোনা পাপ্পু বা বিশ্বজিত পোদ্দার (Sona Pappu)। আজ তিনি নিজেই ইডি দফতরে এসেছেন।সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন তিনি কোথাও পালিয়ে যাননি, বাড়িতেই ছিলেন। তার অফিসে ছিলেন। পুলিশ তার খোঁজে গেলেও তিনি বাড়ি থেকে বেরোননি বলে দাবি বিশ্বজিতের। তার বাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গিয়েছিল সেই বিষয়েও তিনি কিছু বলেননি। তিনি বলেন ইডি তাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে এবং তার ভিত্তিতেই তিনি আজ CGO তে দেখা করতে এসেছেন।
তার বাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গিয়েছিল সেই বিষয়েও তিনি কিছু বলেননি। তিনি বলেন ইডি তাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে এবং তার ভিত্তিতেই তিনি আজ CGO তে দেখা করতে এসেছেন। তিনি আরও বলেন আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যাবসায়ী জয় কামদারের সঙ্গে তার শুধু মাত্র বন্ধুত্ব ছিল কোনও ব্যাবসায়িক সম্পর্ক ছিল না।
আরও দেখুনঃ বিশ্বমঞ্চে অনন্য নজির! সুইডেনের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী মোদী
বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু হলেন দক্ষিণ কলকাতার একজন কুখ্যাত রিয়েল এস্টেট প্রোমোটার ও সিন্ডিকেট চালনাকারী। যার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, বলপূর্বক জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ, দাঙ্গা এবং খুনের চেষ্টার মতো একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) তাঁর বিরুদ্ধে পিএমএলএ (PMLA) আইনে আর্থিক তছরুপ বা মানি লন্ডারিংয়ের মামলা দায়ের করেছে। অন্যদিকে, বেহালার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জয় কামদার হলেন সোনা পাপ্পুর প্রধান আর্থিক সহযোগী, যার মাধ্যমে প্রায় ১,১০০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন এবং বেআইনি অস্ত্র কেনাবেচার প্রমাণ মিলেছে. এই কারণেই জয় কামদারের নাম এই মামলায় সরাসরি জড়িয়েছে।
এছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ, কসবা এবং গোলপার্ক এলাকায় ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট চক্র চালানো। আইনি সমস্যাযুক্ত বা বিতর্কিত জমি চিহ্নিত করে ভুয়ো নথি তৈরি বা জোরপূর্বক মালিকদের কাছ থেকে কম দামে লিখিয়ে নেওয়ার মত অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে গড়িয়াহাট ও গোলপার্ক এলাকায় হিংসাত্মক ঘটনা ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ। ১ এপ্রিল ২০২৬-এ বালিগঞ্জে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি “Made in USA” লেখা বেআইনি পিস্তল উদ্ধার করে।
এছাড়াও তদন্তে উঠে আসে জয় কামদারের সংস্থা ‘সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেড’ থেকে সোনা পাপ্পুর সংস্থা ‘এসপি কনস্ট্রাকশন’-এ ১.৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের ঘটনা। অভিযোগ, জয় কামদার বিভিন্ন ভুয়ো (Shell) কোম্পানির মাধ্যমে সোনা পাপ্পু ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রায় ১,১০০ কোটি টাকার অবৈধ কালো টাকা সাদা করতে সাহায্য করতেন। ইডির তদন্তে জানা গেছে, সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে যে মার্কিন পিস্তলটি উদ্ধার হয়েছিল, সেটি মূলত জয় কামদারের মালিকানাধীন একটি সংস্থার মাধ্যমেই কেনা হয়েছিল।

