রোহিঙ্গা অভিযোগে কাটা গেছে নাম! ছেলের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে মৃত্যু চাইলেন ফরিদুল

sheikh-faridul-islam-voter-list-rohingya-allegation

হাওড়া: সীমান্ত পেরোননি। কাগজপত্র হারাননি। রোহিঙ্গাও নন তিনি এও দাবি করেছেন। তবু এক রাতের মধ্যে তিনি হারিয়ে ফেললেন তাঁর ভোটাধিকার।(Sheikh Faridul) হাওড়ার ৪০ বছরের যুবক শেখ ফরিদুল ইসলাম, একজন সাধারণ মুসলিম পিতা, এখন রাষ্ট্রপতি ও সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছেন তাঁকে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হোক। ফরিদুলের জীবন একসময় সাধারণ ছিল। পরিবার, ছোট ছেলে, দৈনন্দিন রুজিরুটি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় তাঁর নামসহ পরিবারের অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলছেন, “আমি সীমান্ত পেরোইনি, কোনো জালিয়াতি করিনি। তবু আমাকে বলা হল তুমি আর ভোটার নও।” এই ঘটনা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, এই অপমান, হতাশা ও ভয় সহ্য করতে পারছেন না।সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফরিদুল বলেন, তিনি বলেন, “যদি দরকার হয় মরতেও রাজি আছি।তিনি বলেন রাষ্ট্রের হাতে তিনি মরতে রাজি নন। তাই রাষ্ট্রপতি এবং সুপ্রিমকোর্টের কাছে এই আবেদন।

   


কিন্তু আমি চাই না আমার ছেলে এই দেশে এক ‘ডিলিটেড মুসলিম ভোটারের’ সন্তান হিসেবে বড় হোক। আমি আত্মসমর্পণ করব না। আমার ভারতীয় পরিচয় বাঁচাতে লড়াই করব।” ফরিদুলের এই কথাগুলো শুধু একজন ব্যক্তির আর্তনাদ নয়। এটা একজন বাবার গভীর উদ্বেগ। তিনি জানেন, ভোটাধিকার হারানো মানে শুধু একটা ভোট নয় এটা নাগরিকত্বের প্রশ্ন, পরিচয়ের প্রশ্ন, ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তাঁর ছেলে যখন বড় হবে, তখন যদি বাবার নাম ভোটার তালিকায় না থাকে, তাহলে সমাজে কী পরিচয়ে বাঁচবে?

আরও দেখুনঃ এটা তো ট্রেলার! আসল গরম এখনও বাকি! কলকাতা-সহ দেশের ৭৮ শহরে হিটওয়েভ

এই ভয় তাঁকে এতটাই কাবু করে ফেলেছে যে তিনি চরম পথ বেছে নিতে চাইছেন।হাওড়ার এই ঘটনা একা নয়। বাংলায় SIR প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। অনেকেই বলছেন, এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফরিদুলের মতো অনেক পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ আপিল করছেন, কেউ আদালতে ছুটছেন।

কিন্তু প্রক্রিয়া জটিল, সময় কম। অনেকের মনে প্রশ্ন এতগুলো নাম এভাবে কাটা কি যুক্তিযুক্ত? নির্বাচন কমিশনের দাবি, এটা ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া। যাঁদের নামে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, তাঁদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টও কিছু আবেদনকে ‘প্রিম্যাচিওর’ বলে খারিজ করেছে এবং বলেছে, প্রথমে নিম্ন আদালত বা ট্রাইবুনালে যান। কিন্তু ফরিদুলের মতো মানুষের কাছে এসব কথা শুধু কাগজের। তাঁর কাছে এটা জীবন-মরণের প্রশ্ন।