কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে চলা বিদ্রোহের অন্যতম মুখ তিনি। স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে সোমবার দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। ত্রিপুরার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-এর সঙ্গে তৃণমূলের যে ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ মিশে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে শতাব্দী অন্যতম। কলকাতায় পা রেখেই দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির আক্রমণ করলেন তিনি।
দিল্লিতে তাঁর বাংলোতেই বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর রবিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ির বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন শতাব্দী। এনসিপিআই-এর সঙ্গে মিশে গিয়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ (NDA)-র শরিক হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। (Satabdi Roy slams Abhishek Banerjee)
অভিষেক সম্পর্কে বিস্ফোরক শতাব্দী
তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের জীবনযাত্রা ও নেতৃত্ব দেওয়ার ধরন নিয়ে এদিন চরম ক্ষোভ উগরে দেন বীরভূমের সাংসদ। শতাব্দী বলেন, “অভিষেক অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ যুবক। সে অনেক কিছু অর্জন করতে পারত। তার রাজনৈতিক সম্ভাবনাও ছিল, কিন্তু কোনও এক কারণে তাকে ভুল পথে চালিত করা হয়েছে।”
এরপরই মমতা ও অভিষেকের জীবনযাত্রার তুলনা টেনে তিনি বলেন, “অভিষেক দলে যেভাবে লিড করে বা নিজের যে জীবনযাত্রা তৈরি করেছে, সেটা সবার চোখে লাগার মতো। ওর চলাফেরা, ব্যবহারের জন্যই ও সবার কাছে অভিযোগের কারণ। যেখানে দিদি মাটিতে বসে চা খান, সেখানে অভিষেক মাটিতে বসে না। আর এই ক্ষোভগুলোই এখন প্রকাশিত হচ্ছে।”
দুর্নীতির প্রশ্নে কাঠগড়ায় মমতা
দলত্যাগের বিষয়ে শতাব্দী জানান, ১৭ বছর ধরে তিনি দলের সঙ্গে ছিলেন। ২০০৯ সালের সঙ্কটেও দলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “ক্ষোভ পাহাড়ের মতো জমে উঠেছে। এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে সবাইকে প্রভাবিত করেছে।”
তৃণমূল আমলে হওয়া দুর্নীতি নিয়ে খোদ মমতাই যে দায়ী, সে কথাও স্পষ্ট করেছেন শতাব্দী। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার (বিজেপি সরকার) পূর্বতন সরকারের কর্মকাণ্ডে যেখানেই হাত দিচ্ছে, সেখানেই দুর্নীতির যোগ পাচ্ছে। আমরা দুর্নীতির বিষয়ে যেটুকু জানতাম, সেটুকু শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাতাম। কিন্তু তাতে কখনও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।” দিদিকে (মমতা) জানালে তিনি উলটে বলতেন, “তোমাদের ভুল বোঝাচ্ছে”, এমনটাই দাবি শতাব্দীর।
স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ২০ সাংসদের
এনডিএ-কে সমর্থনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছেন এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। শতাব্দী রায় ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা ও তারকা সাংসদ। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, অভিনেতা দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিকের মতো চর্চিত নামগুলোও রয়েছেন এই বিদ্রোহী শিবিরে।
কলকাতায় ফিরে শতাব্দী স্পষ্ট জানিয়েছেন, “অন্যান্য জায়গায় মানুষ ভোট দিয়েছে কারণ তারা পরিবর্তন চেয়েছিল। আমরা এনডিএ-র সহযোগী হব। এটা অবশ্যই একটা বড় চ্যালেঞ্জ।” তৃণমূলের এই মহাভাঙন বঙ্গ রাজনীতিতে যে নতুন সমীকরণ তৈরি করল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।




