নাগপুর: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত ফের আলোচনার কেন্দ্রে (Mohan Bhagwat)। তিনি বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও অন্তরের তাড়নায় ধর্মান্তরিত হন, তাহলে আরএসএসের কোনো আপত্তি নেই। তবে যখন ধর্মান্তরণের পেছনে প্রলোভন, জোরজবরদস্তি বা অন্য ধর্ম ও তার ঐতিহ্যকে অপমান করার উপাদান জড়িত থাকে, তখনই উদ্বেগ দেখা দেয়।
তাঁর এই বক্তব্য ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির প্রসঙ্গে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত স্পষ্টভাবে বলেন, “ধর্ম পরিবর্তন করা কোনো অপরাধ নয়, যদি তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হয়। মানুষের মনে যদি সত্যিকারের আস্থা জন্মায়, তাহলে সে যে কোনো পথ বেছে নিতে পারে। আরএসএস এতে কোনো সমস্যা দেখে না।”
আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/west-bengal/abhishek-banerjee-at-ed-office/
তিনি আরও যোগ করেন, সমস্যা তখনই শুরু হয় যখন এই প্রক্রিয়ায় অর্থ, চাকরি, বিবাহ বা অন্য কোনো লোভ দেখানো হয়, কিংবা কাউকে ভয় দেখিয়ে বা চাপ প্রয়োগ করে ধর্ম পরিবর্তন করানো হয়। সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হলো, যখন এক ধর্মের ঐতিহ্য, দেব-দেবী বা সংস্কৃতিকে অবমাননা করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করানোর চেষ্টা চলে।
সংঘ প্রধানের এই বক্তব্যকে অনেকে আরএসএসের মূল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। সংঘের নেতৃত্ব বরাবরই বলে এসেছেন যে, ভারতীয় সংস্কৃতির মূলে রয়েছে ‘সর্বধর্ম সমভাব’। কিন্তু একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেন, ধর্মান্তরণ যেন সমাজের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিঘ্নিত না করে। অনেক অঞ্চলে গ্রামীণ এলাকায় বা আদিবাসী সমাজে প্রলোভনমূলক ধর্মান্তরণের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে হিন্দু সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে।
ভাগবতের বক্তব্য সেই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, ধর্ম হলো ব্যক্তির আত্মিক যাত্রা। কেউ যদি সত্যিই কোনো ধর্মের দর্শনে আকৃষ্ট হয়ে স্বেচ্ছায় সেখানে যোগ দেন, তাহলে তাতে বাধা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু যদি বাইরের শক্তি বা সংগঠিত প্রচেষ্টায় সমাজের এক অংশকে অন্য ধর্মে টেনে নেওয়ার চেষ্টা হয়, তাহলে তা সমাজের স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।
ভাগবত বলেন, “আমরা কোনো ধর্মের বিরোধিতা করি না, কিন্তু আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে চাই।”এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হিন্দু সংগঠনগুলো এটিকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছে, এতে পরিষ্কার হয় যে আরএসএস ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরোধী নয়, বরং অসৎ উপায়ে ধর্মান্তরণের বিরোধী। অন্যদিকে কিছু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংখ্যালঘু সংগঠন এই বক্তব্যকে ‘শর্তসাপেক্ষ স্বাধীনতা’ বলে সমালোচনা করেছে। তারা মনে করে, ধর্মান্তরণের অধিকার সম্পূর্ণ অবাধ হওয়া উচিত





