স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর প্রথম আলো দেখল খয়রাগড়ের সালহেওয়ারা

রায়পুর: স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও যে গ্রামগুলোতে বিদ্যুতের একটা বাল্বও (Salhewara)জ্বলেনি, সেই অন্ধকারের দেশে আজ প্রথমবারের মতো আলো পৌঁছেছে। ছত্তিশগড়ের খয়রাগড়-ছুইখাদান-গান্দাই এলাকার সালহেওয়ারা অঞ্চলের গোয়ালগুন্ডি…

salhewara-villages-get-electricity-after-78-years-chhattisgarh

রায়পুর: স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও যে গ্রামগুলোতে বিদ্যুতের একটা বাল্বও (Salhewara)জ্বলেনি, সেই অন্ধকারের দেশে আজ প্রথমবারের মতো আলো পৌঁছেছে। ছত্তিশগড়ের খয়রাগড়-ছুইখাদান-গান্দাই এলাকার সালহেওয়ারা অঞ্চলের গোয়ালগুন্ডি আমাতোলা গ্রামসহ কয়েকটি প্রত্যন্ত গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। একসময় নকশালদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল এখন ধীরে ধীরে উন্নয়নের আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছে।

গ্রামবাসীদের চোখে এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। খয়রাগড় এলাকাটি মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড়ের সীমান্তে অবস্থিত। ঘন জঙ্গল আর পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় দীর্ঘদিন এখানে প্রশাসনের পৌঁছানো কঠিন ছিল। নকশালরা এই এলাকাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। বিদ্যুতের লাইন টানতে গেলে তারা বাধা দিত, কর্মীরা ভয়ে আসতে চাইত না। ফলে স্বাধীনতার পর থেকে এই গ্রামগুলো অন্ধকারেই রয়ে গিয়েছিল।

   

আরও দেখুনঃ মধ্যবিত্তের হেঁশেলে কোপ! একধাক্কায় দাম বাড়ছে পাউরুটির

কোনো ফ্যান, কোনো ফ্রিজ, কোনো টিউবলাইট কিছুই ছিল না। শিশুরা স্কুলে যেতে পারত না রাতের অন্ধকারে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ছিল দুঃসাধ্য।কিন্তু গত কয়েক বছরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এই অঞ্চল থেকে নকশাল প্রভাব অনেকটাই কমেছে। প্রশাসন এখন সাহস করে উন্নয়নের কাজে হাত দিয়েছে। ছত্তিশগড় সরকারের বিশেষ প্রকল্পের আওতায় এই গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

কয়েক কিলোমিটার তার টেনে, ট্রান্সফরমার বসিয়ে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ এসেছে। গ্রামের লোকজন যেদিন প্রথম সুইচ অন করলেন, সেদিন আনন্দের অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি অনেকে।কালেক্টর ইন্দ্রজিৎ চন্দ্রওয়াল বলেছেন, “এটা শুধু বিদ্যুতের সংযোগ নয়, এটা আস্থার সংযোগ। যে এলাকা একসময় যুদ্ধক্ষেত্র ছিল, সেখানে আজ উন্নয়ন পৌঁছাচ্ছে।” বিদ্যুৎ আসায় গ্রামের অর্থনীতিতেও পরিবর্তন আসছে। ছোট ছোট দোকানে ফ্রিজ রাখা যাবে, সেলাই মেশিন চলবে, কৃষকরা সেচের সুবিধা পাবেন। সবচেয়ে বড় কথা, শিশুদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।