কলকাতা: সকালের জলখাবার হোক বা বিকেলের টিফিন, পাউরুটি ছাড়া মধ্যবিত্তের একপ্রকার অচল। স্যান্ডউইচ থেকে শুরু করে টোস্ট বা ডিম-পাউরুটি, প্রতিদিনের খাবারে সব ঘরেই এর নিত্য যাতায়াত। কিন্তু এবার সাধারণ মানুষের সেই প্রাত্যহিক অভ্যাসেই কোপ পড়তে চলেছে। রাতারাতি বাড়তে চলেছে পাউরুটির দাম। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নামী বেকারি সংস্থা পাউরুটির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যার জেরে স্বাভাবিকভাবেই আমজনতার হেঁশেলের খরচ বাড়তে চলেছে। কিন্তু আচমকা কেন এই মূল্যবৃদ্ধি?
কেন বাড়ছে পাউরুটির দাম?
বেকারি মালিকদের দাবি, এই সঙ্কটের মূল কারণ কেন্দ্র সরকারের সাম্প্রতিক একটি নির্দেশিকা। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে দেশের তিনটি পেট্রোলিয়াম সংস্থাকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পাম্পগুলি থেকে কেবলমাত্র ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক গাড়িতেই জ্বালানি দেওয়া যাবে। আগামী তিন মাস শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য কোনও খোলা পাত্র, জ্যারিকেন বা ড্রামে পেট্রল-ডিজেল বিক্রি করা যাবে না। আর এই নির্দেশিকার জেরেই মাথায় হাত রাজ্যের বেকারি ও বিস্কুট কারখানাগুলির। কারখানার যন্ত্রাংশ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না মেলায় চরম সঙ্কটে পড়েছে রাজ্যের প্রায় তিন হাজার বেকারি। যার জেরে ইতিমধ্যেই ৯৫ শতাংশ বেকারি তাদের উৎপাদন অর্ধেক করে দিয়েছে। এমনকি, বেশ কিছু গ্রামীণ বেকারি সম্পূর্ণ বন্ধও হয়ে গিয়েছে। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২৫ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অন্ধকারের মুখে।
ব্যাহত জোগান, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি
উৎপাদন তলানিতে ঠেকায় তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জোগানেও। রাজ্য জুড়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রয়োজনীয় পাউরুটির জোগান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত সোমবারই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বেকারি অ্যাসোসিয়েশন। জরুরি ভিত্তিতে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। সংগঠনের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা দ্রুত প্রত্যাহার না করা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে পাউরুটির দাম বাড়ানো ছাড়া তাঁদের কাছে আর কোনও বিকল্প পথ খোলা থাকবে না।
কত দামে মিলছে পাউরুটি?
এদিকে সংগঠনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে দাম বৃদ্ধির ঘোষণার আগেই মডার্ন, ব্রিটানিয়া, মেট্রো গোল্ড, শুভনারায়ণ এবং ব্যারনের মতো একাধিক নামী সংস্থা বাজারে পাউরুটির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজার সূত্রের খবর, ৪০০ গ্রামের এক পাউন্ড হোয়াইট স্লাইসড ব্রেডের দাম একধাক্কায় ৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, যে পাউরুটি আগে ৩৬ টাকায় মিলত, তা এখন ৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পাশাপাশি, ৪০০ গ্রামের হোলউইট এবং মাল্টিগ্রেন ব্রেডের দামও ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে খবর। ফলে সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের পকেটে যে বড়সড় টান পড়তে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।



